দলের সবাই যখন ধর্মশালার পাহাড় ঘেরা স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরাচ্ছেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া তখন একাকী লড়াই করছেন মুম্বাইয়ের নেটে। চোট আর ফর্মের টানাপোড়েনে জেরবার এক অধিনায়কের এই নিঃসঙ্গ অনুশীলন যেন চলতি আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের করুণ পরিণতিরই এক প্রতিচ্ছবি। একদিকে ইনজুরি, অন্যদিকে প্লে-অফ থেকে ছিটকে যাওয়ার গ্লানি; সব মিলিয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য ২০২৬ সালটা হয়ে রইলো এক হতাশার গল্প।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে হার্দিককে দেখা গেল থ্রো-ডাউন স্পেশালিস্টদের বিপক্ষে লড়তে। পিঠের ব্যথার কারণে গত দুই ম্যাচ দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডার কি পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ফিরবেন? উত্তরটা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। এমনকি রায়পুরে রয়্যাল চ্যলেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষেও তিনি দেরিতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু মেডিকেল টিমের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় নামা হয়নি মাঠে। মাঠের বাইরে থেকে দলের হার দেখা ছাড়া এখন যেন কিছুই করার নেই মুম্বাই ক্যাপ্টেনের।
অন্যদিকে, দলের ভরসা সুরিয়াকুমার যাদবও নেই স্কোয়াডের সাথে। তবে তার কারণটা আনন্দের; সম্প্রতি বাবা হওয়ায় ব্যক্তিগত ছুটিতে আছেন এই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। হার্দিকের অনুপস্থিতিতে তিনিই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সুরিয়া হয়তো পরে দলের সাথে যোগ দেবেন, কিন্তু ততক্ষণে টুর্নামেন্টে মুম্বাইয়ের যা পাওয়ার ছিল, তার সবটুকুই ধূলায় মিশে গেছে।

এবারের মৌসুমে হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তাঁর নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে মাত্র ১৪৬ রান আর বল হাতে ৪টি উইকেট যেন মুম্বাইয়ের দুর্দশারই চিত্র তুলে আনে। পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে নেতৃত্বভার নিলেও, মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে এবং দলকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো রোহিত শর্মাদেরকে।
আরসিবির কাছে দুই উইকেটের হারটিই ছিল কফিনের শেষ পেরেক। সেই হারের পর মুম্বাইয়ের হেড কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে কোনো রাখঢাক না রেখেই স্বীকার করেছেন দলের ব্যর্থতা। এই শ্রীলঙ্কানের মতে, এবার জেতার মতো যোগ্য ক্রিকেট খেলেনি মুম্বাই। জয়াবর্ধনে আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই মৌসুমটি অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা যথেষ্ট ভালো খেলতে পারিনি।’
দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ধারাবাহিকতাহীনতা নিয়ে মাহেলা আরও যোগ করেন, ‘আমরা বল বা ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পারিনি, যার প্রভাব পড়েছে ম্যাচের ফলাফলে।’ চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর যে মানদণ্ড থাকে, মুম্বাই এবার তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ছোট ছোট ভুলের খেসারত দিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই শেষ হয়ে গেল তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই ভরাডুবি আবারও প্রমাণ করল, আইপিএলে শুধু নাম নয়, বরং মাঠের লড়াইয়ে ধারাবাহিকতা আর ফিটনেসই শেষ কথা। হার্দিকের চোট আর মুম্বাইয়ের হার, সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটা নীল শিবিরের জন্য এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। এখন দেখার বিষয়, আগামী মৌসুমে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে এই শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।










