নজরকাড়া গতি, চোখের পলকে ব্যাটসম্যানের স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া আর ২২ গজে গতির মহোৎসব, সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে এখন এক নতুন আতঙ্কের নাম নাহিদ রানা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যখন একজন খাঁটি এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলারের হাহাকার ছিল, ঠিক তখনই যেন আশীর্বাদ হয়ে আবির্ভূত হলেন এই তরুণ। তাঁর হাতের প্রতিটি ডেলিভারি যেন এখন কেবল বল নয়, একেকটি আগুনের গোলা!
মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনের শেষ সেশনের খেলা চলছে। নাহিদ যখন ছুটে এসে বল ছুড়লেন তখন পাকিস্তানের ব্যাটার মোহাম্মদ ভেবেছিলেন স্টাম্প বুঝি নিরাপদে থাকবে। তাই তো, বল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বিস্মিত দর্শকেরা দেখলো নাহিদের সেই বলে স্টাম্প তচনচ হয়ে গেছে। এই বলটাই যেন জানিয়ে দেয় নাহিদের ২০২৬ সালটা কেমন যাচ্ছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই নাহিদ যেন অপ্রতিরোধ্য। মাঠের সবুজ ঘাস আর ব্যাটারদের উইলো, সবই তুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে তাঁর গতির ঝড়ের কাছে। তাঁর বোলিং রান-আপ যেন কোনো যুদ্ধবিমানের টেক-অফ, আর বল ছাড়ার মুহূর্তটি হলো চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে এখন তাঁর নাম মানেই এক গভীর দুশ্চিন্তা।

গাণিতিক পরিসংখ্যানও তাঁর রাজকীয় উত্থানের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এ বছর ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে মাত্র আট ইনিংসেই ঝুলিতে পুরেছেন ২২টি মূল্যবান উইকেট। এর মধ্যেই তিন-তিনবার পাঁচ উইকেট শিকার করার অবিশ্বাস্য কীর্তিও রয়েছে তাঁর। ১৯.২২ গড়ে নেওয়া এই উইকেটগুলো তাঁকে বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শীর্ষ উইকেট শিকারিতে পরিণত করেছে।
নাহিদ রানা কেবল গতি দিয়েই নয়, ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করছেন তার নিখুঁত লাইন-লেন্থ আর বাউন্স দিয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা এই তরুণ যখন দৌড়ে আসেন, গ্যালারির গর্জন বাড়ে, আর হৃদস্পন্দন থমকে যায় ব্যাটারের। তাঁর প্রতিটি বাউন্সার যেন ব্যাটসম্যানের হেলমেটে আছড়ে পড়ে গতির বার্তা দিয়ে যায়।
মাঠের লড়াইয়ে রানার আত্মবিশ্বাস দেখার মতো। উইকেট পাওয়ার পর তাঁর সেই চওড়া হাসি আর সতীর্থদের নিয়ে উদযাপনের ভঙ্গি যেন জানান দেয়, বাংলার পেস বোলিং ইউনিট এখন আর কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। তাঁর এই বিধ্বংসী ফর্ম কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো দলের মনোবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

নাহিদ রানা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেই আগুনের শিখা, যা ড্রেসিংরুম থেকে গ্যালারি, সবখানেই ছড়িয়ে দিচ্ছে গতির রোমাঞ্চ। ২০২৬ সালে তাঁর এই দাপুটে পারফরম্যান্স তো কেবল শুরু মাত্র; সামনের দিনগুলোতে ক্রিকেট বিশ্ব আরও কতবার এই ‘চাপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস’-এর ঝড়ে লন্ডভন্ড হবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ।










