জয়ের হারে ভারতকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ

গত দুই বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাদা পোশাকের লড়াইয়ে জয়ের হারের দিক থেকে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে টাইগাররা।

টেস্ট ক্রিকেটের চিরাচরিত সমীকরণ বদলে দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বিস্ময় জাগিয়েছে বাংলাদেশ। গত দুই বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাদা পোশাকের লড়াইয়ে জয়ের হারের দিক থেকে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে টাইগাররা।

গত দুই বছরে বাংলাদেশ মোট ১৫ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে তারা। যা শতকরার হিসেবে ৪৬.৬৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, এই একই সময়ে শক্তিশালী ভারত ১৯ টি টেস্ট খেলে জয় পেয়েছে সাতটিতে। যার জয়ের হার ৩৬.৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জয়ের সংখ্যার দিক থেকে সমান থাকলেও সাফল্যের শতাংশে ভারতের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ তে এক ঐতিহাসিক সিরিজ জয় লাভ করে বাংলাদেশ। পরের বছর জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এক ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র নিশ্চিত করে।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলতে গিয়েও এক ম্যাচ হারের বিপরীতে এক ম্যাচ ড্র করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০২৫ সালের সমাপ্তিলগ্নে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে দাপুটে জয় পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২০২৬ সালের প্রথম টেস্টে মিরপুরে শক্তিশালী পাকিস্তানকে আবারও পরাজয়ের গ্লানি দেয় শান্ত-তাসকিনরা।

শুধুমাত্র ভারত নয়, এই নির্দিষ্ট সময়ে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার টেস্ট জয়ের হারও বাংলাদেশের নিচে। আগামীতে টেস্ট ক্রিকেটে আরও বাংলাদেশের ঠাসা সূচি রয়েছে। সামনেই রয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও একটি টেস্ট সিরিজ।

​বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হলো পেস ইউনিটের অভাবনীয় উন্নতি। অতীতে স্পিন-নির্ভরতা থাকলেও এখন তাসকিন-নাহিদরা যেকোনো কন্ডিশনে উইকেট তুলে নিচ্ছেন।

পাশাপাশি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে বড় পুঁজি এনে দিচ্ছে। পেস বোলিংয়ের এই ধার এবং মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা বজায় থাকলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই জয়রথ নি:সন্দেহে আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link