বাউন্ডারি লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে এক কিশোর উৎসুক চোখে বল কুড়াতো। তখন কি কেউ জানত সেই ছোট হাতগুলোই একদিন বিশ্ব ক্রিকেটের ব্যাটন ধরবে? লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের সেই বল বয় থেকে আজকের গ্লোবাল সুপারস্টার। বাবর আজমের এই সফর যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বাবর একটি নস্টালজিক কোলাজ শেয়ার করেছেন। যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভক্তদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা ছিল সহজ কিন্তু গভীর। ‘আমি পারলে, তোমরাও পারবে।’
নিজের অতি সাধারণ অতীতকে ভুলে না গিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, স্বপ্ন আর কঠোর পরিশ্রমের মেলবন্ধন ঘটলে আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব কিছু নয়।

ফিরে যাওয়া যাক ২০০৭ সালে। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট সিরিজ চলছে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। সেই সিরিজে বাবর ছিলেন একজন সাধারণ বল বয়। স্টেডিয়ামে আসার জন্য তখন তাকে প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হতো।
বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বল কুড়াতেন, তখন তার দুচোখ স্বপ্ন বুনত এবি ডি ভিলিয়ার্স কিংবা ইনজামাম-উল-হকের ব্যাটিং শৈলী দেখে। সেই মাঠের ধুলোবালি মেখেই শুরু হয়েছিল এক আগামীর কিংবদন্তির পথচলা।
সময়ের বিবর্তনে বাবর আজম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এক অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হিসেবে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৪৫টি ম্যাচ খেলে তিনি ৪,৫৯৬ রান নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচেও তার ব্যাটের ধার ঠিক সমানভাবে প্রখর। ১৪০ ম্যাচে ৫৩.৭২ গড় নিয়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ৬,৫০১ রান। এমনকি ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্টেও ৬১ ম্যাচে ৪,৩৬৬ রান করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত অর্জনের সীমানা ছাড়িয়ে বাবর সম্প্রতি নেতৃত্বের মুকুটেও যোগ করেছেন এক নতুন পালক। পাকিস্তান সুপার লিগের ১১তম আসরে তার সুযোগ্য অধিনায়কত্বে পেশোয়ার জালমি শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। এটি অধিনায়ক হিসেবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক।
আসলে বাবরের এই যাত্রা কেবল একজন ক্রিকেটারের উত্থান নয়। এটি একটি অসম্ভবের সম্ভব হওয়ার মহাকাব্য। যে ছেলেটি এক সময় সীমানার ওপার থেকে বাউন্ডারি হওয়া বল কুড়িয়ে ফেরত পাঠাতেন, আজ তার ব্যাট থেকে বের হওয়া বাউন্ডারি কুড়াতে মরিয়া হয়ে থাকে বিশ্বসেরা ফিল্ডাররা।












