বুমরাহর ওয়ানডে অধিনায়কত্বটাই বাকি

ঘাতক ইয়র্কারে ব্যাটারদের পায়ের পাতা চূর্ণ করা যার চেনা স্বভাব, সেই মানুষটিই এদিন মগজাস্ত্রের চালে প্রতিপক্ষকে মাত করলেন।

গতি আর সুইংয়ে ব্যাটারদের স্টাম্প ওড়ানো যার নেশা, সেই জাসপ্রিত বুমরাহ এবার মাঠ মাতালেন চতুর অধিনায়কত্বে। ঘাতক ইয়র্কারে ব্যাটারদের পায়ের পাতা চূর্ণ করা যার চেনা স্বভাব, সেই মানুষটিই এদিন মগজাস্ত্রের চালে প্রতিপক্ষকে মাত করলেন। ম্যাচ শেষেও হাস্যোজ্জ্বল মুখে সঞ্চালকের সাথে রসিকতা করতে দেখা গেল তাকে।

নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া এবং সুরিয়াকুমার যাদবের অনুপস্থিতিতে মুম্বাইয়ের ভাগ্যচক্রের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া হয়েছিল বুমরাহর হাতে। আর নেতৃত্বের অভিষেকেই বাজিমাত! পাঞ্জাবকে ছয় উইকেটে হারিয়ে বুমরাহ প্রমাণ করলেন, বলের সুইংয়ের মতো মগজাস্ত্রের চালেও তিনি সিদ্ধহস্ত।

যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের হয়ে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাঁর অধিনায়কত্ব প্রশংসিত হয়েছিল ক্রিকেট মহলে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের স্বভাবসুলভ হাসিতে ফেটে পড়লেন এই গতিদানব। হাসতে হাসতেই ছুড়ে দিলেন এক চিমটি রসিকতা। তিনি বলেন ‘টেস্টের ক্যাপ্টেন্সি করেছি, টি-টোয়েন্টিতেও নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন কেবল ওয়ানডে ক্রিকেটটাই বাকি আছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এমনটা ঘটবে বলে আমার মনে হয় না।’

প্লে-অফের লড়াই থেকে মুম্বাই ছিটকে গেলেও, এদিনের ম্যাচে তাঁদের লড়াকু মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তিলক ভার্মার বিধ্বংসী অর্ধশতরান এবং রায়ান রিকেলটনের ঝড়ো ইনিংস মুম্বাইয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ধরমশালার পিচে বোলারদের শৃঙ্খলা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বুমরাহ।

এবারের আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে বুমরাহর ব্যক্তিগত ফর্ম হয়তো তাঁর চেনা ছন্দের ধারেকাছেও নেই। ১২ ম্যাচে মাত্র তিনটি উইকেট কিংবা ৮.৫৩ ইকোনমি রেট। পরিসংখ্যানের এই শুষ্ক সংখ্যাগুলো বুমরাহ-সুলভ আভিজাত্যের সাথে বড্ড বেমানান। আটটি ম্যাচে উইকেটহীন থাকার যে তিক্ততা তাঁর সঙ্গী হয়েছে, অধিনায়কত্বের এই জয় যেন তাতে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো কাজ করল।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link