ব্যাটিংয়ে দেউলিয়াত্ব, পরিকল্পনায় দৈন্য, আর মাঠে একের পর এক আত্মসমর্পণ! ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে লাল-সবুজের যে চিত্র, তাতে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে কি তবে অপেক্ষা করছে ক্রিকেটীয় বিপর্যয়ের মহাকাব্য?
“কতটুকু অশ্রু গড়ালে হৃদয় জলে সিক্ত, কত প্রদীপ শিখা জ্বালালেই জীবন আলোয় তৃপ্ত!” বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘশ্বাসে যেন বেজে ওঠে এমনই এক বিষাদসুর। জয়হীনতার যন্ত্রণা নয় শুধু, বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তিই যেন ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে। প্রশ্নটা তাই সোজাসাপ্টা, আর কত ব্যর্থতা দেখলে ঘুম ভাঙবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের?

একসময় ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ছিল প্রতিপক্ষের জন্য অস্বস্তির নাম। ২০১৫ থেকে ২০২০, মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে লাল-সবুজের দল বড় বড় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছে। আর এখন? পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই ছবিটা আরও ভয়াবহ। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ৩৬ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১৪টি, হার ২১টি, আর একটি ম্যাচ টাই! সেটিও আবার সুপার ওভারে হেরেছে! সংখ্যাগুলোকে কি নিছক দুঃসময় বলে চালিয়ে দেওয়া যায়? নাকি এগুলো দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যারই নগ্ন প্রতিচ্ছবি?
২০২৩ বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে জয় ছিল মাত্র ২টি। নেদারল্যান্ডসের কাছেও হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এরপর বিদেশের মাটিতে টানা সিরিজ হার, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে হতাশা, আফগানিস্তানের কাছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ! ব্যর্থতার তালিকা কেবলই দীর্ঘ হয়েছে।

চলতি বছরে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা সিরিজ জয়ের মতো সাফল্যও আছে বাংলাদেশের। কিন্তু ঘরের মাঠে সাফল্যের আতশবাজি জ্বালিয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে নিভে পড়লে সেই আত্মবিশ্বাসের মূল্য কতটুকু? জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হার আর চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ্রর ভরাডুবি সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
সবচেয়ে বড় লজ্জার জায়গাটা ব্যাটিং! বোলাররা লড়াই করবেন, উইকেট তুলে দেবেন, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখবেন, আর ব্যাটাররা এসে সেই পরিশ্রমের শ্রাদ্ধ করবেন! এ কেমন ক্রিকেটীয় বন্দোবস্ত? আধুনিক ওয়ানডেতে তিনশো রান এখন আর অলৌকিক কিছু নয়। অথচ বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হয়, দুইশো পেরোনোটাই যেন এভারেস্ট জয়!

২০২৭ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। সেখানে পেস, বাউন্স আর গতির সামনে এই নড়বড়ে ব্যাটিং নিয়ে হাজির হলে প্রতিপক্ষকে আলাদা করে পরিকল্পনাও করতে হবে না বোধহয়। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর কেবলই একটা বছর। তাই ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অভিযান নিশ্চিত, এমন রায় দেওয়ার সময় হয়নি। কিন্তু বর্তমানের গতিপথ না বদলালে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে হতাশাজনক অধ্যায়গুলোর একটি যে অপেক্ষা করতে পারে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ারও উপায় নেই।












