ক্রিকেটের ইতিহাসে কিছু আয়োজন সময়ের সীমানা পেরিয়ে হয়ে ওঠে নস্টালজিয়ার অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ তেমনই এক অধ্যায়, যেখানে তিন দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সমীকরণের মারপ্যাঁচ, ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধ আর শিরোপা জয়ের উন্মাদনা মিলেমিশে তৈরি করত অনন্য এক ক্রিকেটীয় আবহ। একসময় অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে এই আয়োজন ছিল ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের নিয়মিত অনুষঙ্গ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আজ অনেকটাই ম্রিয়মাণ। বিস্মৃতির ধূসর পর্দা সরিয়ে হারিয়ে যাওয়া সেই রোমাঞ্চের দুয়ারই যেন নতুন করে খুলছে আবুধাবি। জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে এই সিরিজে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজ মানেই ফিরে দেখা ২০১৯ সালের আয়ারল্যান্ড সফর। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেবার প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সেটিই বাংলাদেশের একমাত্র ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। এবার আবুধাবিতে বাংলাদেশের সিরিজ শুরুর পরদিনই পাকিস্তানে শুরু হবে আরেকটি ত্রিদেশীয় আসর। সেখানে স্বাগতিক পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলবে ইংল্যান্ড!

ত্রিদেশীয় সিরিজে একসাথে ফিরছে ৬ দল, কারও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কারও ইতিহাস গড়ার হাতছানি!
বাংলাদেশ ফিরছে ৭ বছর পর, জিম্বাবুয়ে ৮ বছর পর। আফগানিস্তানের জন্য এটি হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড নামছে ১১ বছর পর, শ্রীলঙ্কা ৭ বছর পর এবং পাকিস্তান ফিরছে মাত্র এক বছরের বিরতি শেষে।
একসময় ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ ছিল ক্রিকেটের ব্যস্ত ক্যালেন্ডারের পরিচিত অনুষঙ্গ। ১৯৭৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২১টি এমন আয়োজন। একসময়ের নিয়মিত আয়োজন আজ যেন ক্রিকেটের স্মৃতির অ্যালবামে ঠাঁই নেওয়া এক পরিচিত দৃশ্য।

ক্রিকেটের বিবর্তন থেমে নেই। দ্রুতগতির টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিস্তারে বদলে গেছে দর্শকদের অভ্যাস, বদলেছে আয়োজকদের অগ্রাধিকারও। তবু কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো নতুন করে ফিরে আসার অপেক্ষায় বেঁচে থাকে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজও তেমনই এক নস্টালজিয়া, যেখানে লড়াইটা শুধু তিন দলের নয়, মাঠের উত্তেজনা আর হারিয়ে যাওয়া এক ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিরও। কখনো কখনো পুরোনো ভালোবাসাটুকু ফিরে পেলেই যথেষ্ট।










