প্রিয় ওয়ানডেতেও বিষাদের সুরে অবিরাম পতন!

কঠিন উইকেট, চাপ, প্রতিপক্ষের ভালো বোলিং, এসব অজুহাত আর কাজ করছে না। প্রশ্নটা এখন সোজা, পরিস্থিতি বুঝে খেলতে না পারা, কেউ দায়িত্ব নিতে না পারা।

বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ছোট বা বড় দলের কাছে হার আর অস্বাভাবিক ঘটনা নয় সেটা নিয়মিত ঘটনা হয়ে যাচ্ছে । একসময় এই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে হারানো সহজ ছিল না। টি-টোয়েন্টি বা টেস্টে যা-ই হোক, পঞ্চাশ ওভারের খেলায় প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশের জন্য আলাদা করে হিসাব কষতে হতো। সেই সমীহ এখন অনেকটাই স্মৃতি। শনিবার আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার সেই স্মৃতিটাকে আরও দূরে ঠেলে দিল।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য এই উইকেটে অসম্ভব ছিল না। অথচ বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে। পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে এত তাড়াতাড়ি অলআউট হয়ে যাওয়া শুধু একটা খারাপ দিনের গল্প হতে পারে না। কঠিন উইকেট, চাপ, প্রতিপক্ষের ভালো বোলিং, এসব অজুহাত আর কাজ করছে না। প্রশ্নটা এখন সোজা, পরিস্থিতি বুঝে খেলতে না পারা, কেউ দায়িত্ব নিতে না পারা।

উইকেট স্লো ছিল, বল সেভাবে ব্যাটে  আসছিল না। এমন সময় ক্রিজে থিতু হয়ে ইনিংস গড়তে হয়, একটা দুটো করে রান নিয়ে ম্যাচটাকে এগিয়ে নিতে হয়। বাংলাদেশের ব্যাটাররা করলেন উল্টোটা। শুরুটা মন্দ ছিল না, প্রথম দশ ওভারে ৬৬ রান উঠেছিল। কিন্তু ৬৮ রানে তিন উইকেট পড়ার পর কেউ দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়ালেন না। ৯৭ রানে চার উইকেট থেকে ১২৯ রানে আট উইকেট, মাত্র ৩২ রানের মধ্যে চারটা উইকেট চলে গেল। যেন সবার মাঝেই সাজঘরে ফেরার তাড়া ছিলো, পুরো ইনিংসে একজনও পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি, সর্বোচ্চ রান ছিল ৪৬।

তিন ব্যাটার এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন, আর এটাই সবচেয়ে বেশি ভাবানোর কথা। স্লো উইকেটে বল ব্যাটে আসতে সময় নেয়, সেটা বুঝে খেলতে হয়। কিন্তু ব্যাটাররা ক্রিজে এমনভাবে পজিশন নিচ্ছিলেন, যেন বল কোথায় পড়বে সেটা দেখার আগেই শট ঠিক করে রেখেছেন। লাইন মিস হচ্ছিল, বল প্যাডে লাগছিল, আর ড্রেসিংরুমে ফিরে আসতে হচ্ছিল। এটা বোলারের দক্ষতার চেয়ে ব্যাটারের সিদ্ধান্তের ভুলই বেশি। উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসাটা যেন অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে।

সমস্যাটা শুধু এই এক ম্যাচের নয়। জুলাইয়ে হারারেতে তিন ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে দুটিতে হেরেছিল বাংলাদেশ, একটিতে ২৫ রানে, আরেকটিতে ১৩ রানে। অর্থাৎ শেষ চার ম্যাচে তিনটিতেই হার, আর প্রতিবারই এমন জায়গায় হোঁচট, যেখানে একজন শক্ত হয়ে দাঁড়ালেই ম্যাচের চেহারা বদলে যেতে পারত। অধিনায়ক বদলানো হয়েছে, দলেও এসেছে পরিবর্তন, কিন্তু ব্যাটিংয়ের মূল সমস্যাটা যেখানে ছিল সেখানেই আছে। ঘরের মাঠে আশা জাগে, বিদেশে গেলে আবার অন্য এক দল দেখা যায়।

এই সিরিজে বাংলাদেশই ছিল সবচেয়ে বড় ফেভারিট, অথচ শুরুটা হলো হার দিয়ে। সবাই যখন ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, বাংলাদেশ তখন একের পর এক হারে নিজেদের আত্মবিশ্বাস নিজেরাই ক্ষয় করছে। সময় কমছে, আর এখন দরকার এমন কয়েকজন ব্যাটার, যাঁরা চাপের মুহূর্তে নিজের উইকেটটাকে দামি মনে করেন। সেই মানসিকতা না এলে প্রতিপক্ষ বদলাবে, ভেন্যু বদলাবে, কিন্তু স্কোরকার্ডের গল্প একই থাকবে।

Share via
Copy link