আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে পড়ল বিপদে। ২৪ রানে তিন উইকেট চলে গেছে, বাংলাদেশের বোলাররা তখন প্রায় গ্রাস করে নিচ্ছে তাদের। এই অবস্থায় ক্রিজে এলেন ক্রেইগ আরভিন। বয়স একচল্লিশ, দলের সবচেয়ে পুরোনো বুড়োঘোড়া। এমন চাপের সময় কী করতে হয়, সেটা তিনি ভালোই জানেন।
তিনি তাড়াহুড়ো করলেন না। প্রথম ছয় বল খেললেন রান না করেই, একটা বলে ইনসাইড এজ হয়েও বেঁচেও গেলেন। প্রথম রান এল অষ্টম বলে, আর সেটা চার। বোলারের চোখে চোখ রেখে এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেন বলছেন, আমি এখানেই আছি, এত সহজে ফিরছি না। একটা দুটো করে রান নিলেন, মাঝেমধ্যে একটা বাউন্ডারি মারলেন, আর দেখতে দেখতে ম্যাচের রং বদলে গেল। ২৯তম ওভারে লং-অনে ঠেলে পূর্ণ করলেন নিজের ২৬তম ওয়ানডে ফিফটি। সঙ্গী এসে জড়িয়ে ধরলেন, আরভিন শুধু ব্যাট তুলে সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন।
৩২তম ওভারে আম্পায়ার তাঁকে এলবিডব্লিউ দিয়ে দিলেন। অভিজ্ঞ সঙ্গী ব্রেন্ডন টেইলর এর সাথে কথা বলে রিভিউ নিলেন আরভিন, আর রিপ্লেতে দেখা গেল বল আগে লেগেছে প্যাডের ওপরের অংশে, ব্যাটে নয়। সিদ্ধান্ত বদলাতে হলো আম্পায়ারের। পরের ওভারে বাংলাদেশের পেসার বাউন্সার আর স্লোয়ার মিলিয়ে তাঁকে একের পর এক ডট বল করালেন, ছয় বলের ওভারে পাঁচটাই ডট, শেষে মেডেন। আরভিনের মুখে তবু কোনো তাড়া নেই। ব্যাটিংয়ে চমক ছিল না, ছিল ধৈর্য আর ঠিক সময়ে ঠিক শটটা বেছে নেওয়ার ক্ষমতা। ওই জুটি ততক্ষণে দেড়শো রান ছাড়িয়ে গেছে।

শেষ দিকে এসে হাত খুলে রান নেওয়া শুরু করলেন। স্পিনারের বলে পরপর দুটো চার, একটা লং-অফের ওপর দিয়ে, আরেকটা মাপা রিভার্স সুইপে। আবার রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি, তারপর শর্ট বলে ডিপ মিডউইকেটের দিকে আরেকটা চার। ঢুকে পড়লেন নব্বইয়ের ঘরে, সেঞ্চুরি তখন হাতের নাগালে।
৪৩তম ওভারে সেই স্বপ্ন থেমে গেল, একটা বল সামান্য ভেতরে ঢুকে মুভ করলো, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে গেল উইকেটকিপারের গ্লাভসে। ১০৬ বলে ৯৩ রান, নয়টা চার, ছক্কা একটাও নেই। সাত রানের জন্য সেঞ্চুরিটা হলো না।
তবে স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে বোঝা যায় ইনিংসটা কত বড় ছিল। যে দল ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, আরভিন ফেরার সময় তারা ২২৪ রানে পৌঁছে গেছে, হাতে তখনও ছয় ওভারের বেশি বাকি। দলের প্রতি দশ রানের চারটাই এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। সেঞ্চুরি না পেলেও দলের জন্যে যা করার তা করে দিয়ে গিয়েছেন তিনি।











