বাহুতে নেই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড, তবু গোটা মাঠজুড়ে তাঁরই নেতৃত্বের পদচিহ্ন! তিনি শুধু বলের পেছনে ছোটেন না, ছোটান সতীর্থদেরও; শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেন না, রুখে দেন দলের মনোবলেও জমে ওঠা সংশয়ের মেঘ। তিনি হামজা চৌধুরী! আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক নন, অথচ মাঠের রণক্ষেত্রে তিনিই যেন লাল-সবুজের অলিখিত কাপ্তান! এই মুহুর্তে তাই প্রশ্ন একটাই, নেতৃত্ব যখন দৃশ্যমান, স্বীকৃতির আর্মব্যান্ডটি তাঁর হাতে উঠবে আর কত দেরিতে?

জামাল ভূঁইয়ার অবদান অস্বীকার করার সাধ্য কার? লাল-সবুজের জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলা, মাঠে বুক চিতিয়ে লড়াই; সবই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তবে নস্টালজিয়ার নোঙরে জাহাজ বেঁধে রাখলে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না; সামনে এগোতে হলে পাল তুলতেই হয়।
অধিনায়কত্বের প্রশ্নে তাই ফিরে ফিরে আসে একটি মৌলিক জিজ্ঞাসা, একাদশে জায়গা যদি অনিয়মিত হয়, নেতৃত্বের আসনে সেই একই মুখকে আঁকড়ে থাকার যৌক্তিকতা কোথায়?
অন্যদিকে, হামজা যেন এই মুহুর্তে দলের নেতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আপসহীন ট্যাকল, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছুটে চলা, জাতীয় দলের গৌরবের ঐ জার্সিতে তাঁর ফুটবলীয় অভিধানে আত্মসমর্পণের কোনো প্রতিশব্দের দেখা মেলেনি এখন পর্যন্ত! কোচ টমাস ডুলিও যখন বলেছেন, হামজার নেতৃত্ব দিতে আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই, তখন প্রশ্নটি আরও তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে, যে নেতৃত্ব মাঠে প্রতিদিন নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়, তাকে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দিতে এত দ্বিধা কেন?
যেখানে নেতৃত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ ফুটবল একেবারে বিকল্পশূন্য নয়। শমিত সোমের রয়েছে ক্লাব পর্যায়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, ক্যাভেলরির হয়ে করেছেন অধিনায়কত্ব! তপু বর্মণ তো নিয়মিতই সামলান অধিনায়কের দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন হিসেবে!

জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশের ফুটবলে তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাবেন; কিন্তু সেই সম্মান যেন নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনার পথে প্রাচীর হয়ে না দাঁড়ায়। কেননা দল এগিয়ে চলে সমষ্টির শক্তিতে, আর নেতৃত্বের উত্তরাধিকার টিকে থাকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।
লাল-সবুজের ফুটবল এখন পরিবর্তনের সাহস দেখাক। অতীতকে সম্মান জানিয়ে, বর্তমানকে মূল্যায়ন করে, ভবিষ্যতের হাতে তুলে দিক নেতৃত্বের মশাল।











