রোহিতকে গুরুদক্ষিণা দিলেন তিলক!

উত্তেজনায় টগবগ করতে থাকা তিলক নিজের হাত দিয়ে ইশারায় দেখালেন ৪৫ সংখ্যাটি। এটি নিছক কোনো সংখ্যা নয়, বরং হিটম্যান রোহিত শর্মার জার্সির নম্বর।

শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে তিলক ভার্মা যখন পাঞ্জাব কিংসের জয় ছিনিয়ে নিলেন তখন জন্ম হয় এক অবিস্মরণীয় গল্প।  সেই রোমাঞ্চকর জয়ের চেয়েও বেশি কিছু নজর কেড়েছে সবার। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে তিলক ভার্মার সেই বিধ্বংসী ইনিংস আর জয়ের পর রোহিত শর্মার দিকে তাঁর সেই বিশেষ উদযাপন যেন ভারতীয় ক্রিকেটের এক সুন্দর আগামীর গল্প লিখে দিল।

ম্যাচের শেষ দিকে জয় যখন পেন্ডুলামের মতো দুলছিল, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিলক। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে পাঞ্জাব কিংসের বোলারদের শাসন করে অসম্ভবকে সম্ভব করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর পর তিলকের উদযাপন ছিল দেখার মতো। হেলমেট খুলে সোজা দৌড়ে গেলেন ডাগআউটের দিকে, যেখানে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর আদর্শ রোহিত শর্মা।

উত্তেজনায় টগবগ করতে থাকা তিলক নিজের হাত দিয়ে ইশারায় দেখালেন ৪৫ সংখ্যাটি। এটি নিছক কোনো সংখ্যা নয়, বরং হিটম্যান রোহিত শর্মার জার্সির নম্বর। নিজের জয়ের মুহূর্তটিকে তিনি উৎসর্গ করলেন সেই মানুষটির নামে, যিনি ছায়ার মতো থেকে তাঁকে গড়ে তুলেছেন। রোহিতও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে।

মাঠের ক্রিকেটে তিলকের শট সিলেকশন যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল তরুণ রোহিত শর্মাকে। সেই সাবলীল ব্যাটের ফ্লো আর চোখের পলকে বলকে গ্যালারিতে পাঠানোর কারিশমা, সবই যেন রোহিতের কাছ থেকে শেখা। চাপের মুখে ভেঙে না পড়ে যেভাবে তিনি ইনিংসটি শেষ করেছেন, তাতে স্পষ্ট যে মুম্বাই তথা ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সঠিক হাতেই রয়েছে।

ম্যাচ শেষে যখন দুই দলের খেলোয়াড়রা হাত মেলাচ্ছিলেন, তখন দেখা গেল এক আবেগঘন দৃশ্য। রোহিত এগিয়ে এসে তিলককে জড়িয়ে ধরলেন এক বিশাল হাসি নিয়ে। এই হাসিতে যেমন ছিল শিষ্যের জন্য গর্ব, তেমনি ছিল জয়ের তৃপ্তি। এদিন রোহিতের নিজের ইনিংসটি প্রত্যাশানুযায়ী না হলেও, তিলকের ব্যাটিং সেই খামতি ঢেকে দিয়েছে রাজকীয়ভাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সমালোচনা তিলককে ঘিরে থাকলেও, এদিনের ৭৫ রানের ইনিংস দিয়ে জবাব দিয়েছেন। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু পাওয়ার হিটার নন, বরং দলের বিপর্যয়ে ত্রাতা হয়ে ওঠার ক্ষমতাও তাঁর আছে। এই অদম্য জেদ আর মানসিক শক্তিই বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলেছে তিলককে।

রোহিত শর্মা এবং তিলক ভার্মার এই রসায়ন কেবল এক ম্যাচে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক মেন্টর এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরির মেলবন্ধন। রোহিতের অভিজ্ঞতার ঝুলি আর তিলকের তারুণ্যের তেজ, এই দুইয়ের মিশেলে দর্শনীয় এক দৃশ্যের জন্ম হলো আইপিএলের ময়দানে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link