কপাল খুলছে মিরপুরের হোভার কাভারের!

আমাদের দেশের কড়া রোদ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর ভারী বর্ষণের সাথে এই কাভারটি কতটা মানানসই, তা নিয়ে সংশয় ছিল শুরু থেকেই।

কোটি টাকার আধুনিক প্রযুক্তি, অথচ বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে স্রেফ  লোহার বোঝা হয়ে! লর্ডস কিংবা ওভালের সবুজ গালিচায় যে যন্ত্রটি বৃষ্টির দিনে রাজত্ব করে, মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে সেটিই যেন এক ১৬ বছরের ঘুমন্ত অবহেলা। বলছিলাম মিরপুরের সেই হোভার কাভারের কথা, যা দীর্ঘদিন পর আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

সহজ কথায়, হোভার কাভার হলো এমন এক আধুনিক প্রযুক্তি যা বাতাসের চাপে মাটির সামান্য ওপর ভেসে চলতে পারে। সাধারণ কাভার টেনে পিচ ঢাকতে যেখানে অনেক জনবল আর সময় লাগে, সেখানে এই কাভারটি খুব দ্রুত এবং অনায়াসে পুরো পিচ ও তার চারপাশ ঢেকে ফেলে। ফলে বৃষ্টির পানি পিচ স্পর্শ করার আগেই তা সুরক্ষিত হয়ে যায়। কিন্তু মিরপুরের এই কাভারটির ভাগ্য যেন একটু অন্যরকম ছিল।

২০১০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ করে আমদানি করেছিল এই হোভার কাভার। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, বৃষ্টির বাগড়া থেকে মিরপুরের উইকেটকে দ্রুততম সময়ে সুরক্ষা দেওয়া। উপমহাদেশে তখন কেবল ভারতের পুনে স্টেডিয়াম ছাড়া আর কোথাও এই রাজকীয় প্রযুক্তি ছিল না।

কিন্তু আফসোস, কেনার পর গত ১৬ বছরে এটি মাত্র কয়েকবার আলোর মুখ দেখেছে। অলস পড়ে থাকতে থাকতে যেন এর শরীরে মরচে ধরে গিয়েছিল। একসময় তো এটি ভারতের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল! যে কাভারের থাকার কথা ছিল মাঠের ত্রাতা হয়ে, সেটিই রূপ নিয়েছিল মিরপুর স্টেডিয়ামের এক দামি বোঝায়।

অনেকের মতেই, ইংল্যান্ডের আবহাওয়া আর বাংলাদেশের আবহাওয়া এক নয়। আমাদের দেশের কড়া রোদ, অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর ভারী বর্ষণের সাথে এই কাভারটি কতটা মানানসই, তা নিয়ে সংশয় ছিল শুরু থেকেই। তবে খামখেয়ালি আবহাওয়ার চেয়ে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর উদাসীনতাই যে একে অকেজো করে রেখেছিল।

অবশেষে এই ঘুমন্ত দৈত্যের ঘুম ভাঙতে চলেছে। কিউরেটর টনি হেমিং স্টেডিয়ামে এই অবহেলিত প্রযুক্তির দিকে নজর দিয়েছেন। তাঁর কড়া তাগিদেই বিসিবি এখন এটি মেরামত করার জোর উদ্যোগ নিয়েছে। মরচে পড়া লোহায় আবারও প্রাণের স্পন্দন ফেরানোর কাজ চলছে পুরোদমে।

বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, হেমিং এর নির্দেশ পেয়ে কাজ করছেন তাঁরা। তিনি আরও বলেন, “প্রতিটা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রয়োজনীয় সব ইকুইপমেন্ট রাখা হবে। এক স্টেডিয়াম থেকে অন্য স্টেডিয়ামে নিয়ে কাজ চালানো হবে না আর।”  

টাকা হয়তো বিসিবির কাছে কোনো বড় অঙ্ক নয়, কিন্তু ক্রিকেটের আধুনিকায়নে সদিচ্ছার অভাবটা এতদিন স্পষ্ট ছিল। তবে এবার হয়তো কাটতে চলেছে সেই মেঘ। মিরপুরের সবুজ ঘাসে আবারও সগৌরবে ভেসে বেড়াবে এই হোভার কাভার। ১৬ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কোটি টাকার এই প্রযুক্তি অবশেষে মিরপুরের ২২ গজকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাবে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link