বল ব্যাটে লাগসে? সত্যি কইরা ক!

মিরাজ হাসলেন। সেই হাসির অর্থ বুঝতে ভুল করল পুরো ঢাকা দল।

‘বল ব্যাটে লাগসে? সত্যি কইরা ক!’ – মেহেদী হাসান মিরাজের কাছ থেকেই যেন স্বীকারোক্তি বের করতে চাইলেন জাতীয় দলের সতীর্থ লিটন দাস। মিরাজ হাসলেন। সেই হাসির অর্থ বুঝতে ভুল করল পুরো ঢাকা দল।

বাদ পড়ে যাওয়া ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খুলনা টাইগার্সের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথম বল। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিলেন লিটন দাস। তবে, আদৌ বল ব্যাটে লেগেছে কি না, সেটা নিয়ে শঙ্কা।

অধিনায়ক থিসারা পেরেরার সাথে আলাপ করে রিভিউ নিলেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, ব্যর্থ হলেন। একই ওভারে নো-বল করলেন, ঢাকার এই পেসার – সেখান থেকে ছক্কা হাঁকালেন মিরাজ। মিরপুরের স্লো উইকেটে এরকম শুরু প্রত্যাশা করেননি নিশ্চয়ই মুস্তাফিজ।

যদিও ফ্রি হিটে ফিরতি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন। ফ্রি হিটও ছিল বাউন্সার, উইকেটরক্ষক লিটনকে মিরাজের প্রশ্ন – ‘ওয়াইড না?’। পরের বলেই সিঙ্গেল নিলেন মিরাজ।

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ নাঈম শেখ অবশ্য উইকেটে টিকলেন মাত্র দুই বল। টানা দু’টো বল অ্যাঙ্গেলে পাঠিয়ে বাঁ-হাতি ব্যাটারের বিপক্ষে স্যুইং করে বের করলেন মুস্তাফিজ।

তাতেই বিপদ। শেষ বলটা ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন নাঈম। স্লিপে দাঁড়িয়ে বল তালু-বন্দী করতে ভুল করেননি হাবিবুল রহমান সোহান। ডাগ আউটে বসে দাঁড়িয়ে হাত-তালি দিলেন শাকিব খান। দলের শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় করতে নিশ্চয়ই চাইবেন ঢাকাই ছবির কিং খান!

মুহূর্তটা সিনেমার দৃশ্যের মতো— স্ক্রিন নয়, বাস্তবেই। গ্যালারিতে শাকিব খান, চোখে উত্তেজনার ঝলক। গ্যালারির উল্লাসে তাল মিলিয়ে তিনি উঠে দাঁড়ালেন, হাত-তালি দিলেন! দৃশ্যটা যেন মাঠের সঙ্গে মিশে গেল— ক্রিকেট, বিনোদন আর আবেগ এক ফ্রেমে বন্দি!

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link