কী ভিষণ এক দু:স্বপ্ন দিয়ে শুরু হল পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মিশন। পাকিস্তানের নির্ভরতার প্রতীক ফখর জামান শঙ্কায় ফেলে দিয়েছেন পাকিস্তানকে। দারুণ ফর্মে ছিলেন, কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ব্যাথা পেলেন, থামতে হল। চলে গেলেন মাঠের বাইরে।
ফখরের ভাগ্যটাই এমন। ইনজুরি তাঁর নিত্য সঙ্গী। চোট তাকে যেন বারবার থামিয়ে দিয়েছে। করাচিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ওভারেই সেই পুরনো দু:স্বপ্ন আবার ফিরে এল।
শাহীন শাহ আফ্রিদির ওভারের তৃতীয় বল—একটি ওয়াইড ও ফুলার লেন্থ ডেলিভারি, যেটি উইল ইয়ং কাভারের দিকে ঠেলে দিলেন। বল থামাতে ছুটলেন ফখর, গতিময় দৌড়, চোখে আগুন। কিন্তু প্রান্তসীমার কাছাকাছি গিয়েই ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি। ডাইভ দেওয়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়লেন ওকওয়ার্ড ভাবে, এরপরই চেহারায় ভেসে উঠল যন্ত্রণার ছাপ। পিঠে হাত দিয়ে মুহূর্তেই বুঝিয়ে দিলেন, কিছু একটা হয়েছে।

মাঠে ফিজিও এলেন, কিন্তু ফখর বুঝতে পারলেন—এ যাত্রায় আর থাকা হবে না। কপালে ভাঁজ ফেলেই ইঙ্গিত দিলেন বদলির, আর ধীরপায়ে মাঠ ছাড়লেন। পাকিস্তান শিবিরে তখন নিঃশব্দ উৎকণ্ঠা। তার জায়গায় নামলেন কামরান গুলাম।
ফখর জামানের জন্য এটা কেবল একটা চোটের ধাক্কা নয়, বরং এক দীর্ঘ অপেক্ষার কাছে এসে হোঁচট খাওয়া। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাকে। ফিরেছিলেন গেল ত্রিদেশীয় সিরিজে।
অথচ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চেই এক সময় রূপকথার জন্ম দিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ২০১৭ সালে ওভালে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তাঁর ১১৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটাই এনে দিয়েছিল পাকিস্তানকে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। এবার সাত বছর পর সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই ফিরে আসার দিনটায় আবারও কি নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসের শিকার হলেন ফখর? সময়ই হয়তো দেবে সেই উত্তর।











