মহেন্দ্র সিং ধোনির লিগ্যাসি কি চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য হানিকর! তারজন্যই কি ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে পারছে না দলটা? আইপিএলের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে যাদের প্রভাব শুধু মাঠেই নয়, গোটা ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচয়ে ছাপ ফেলেছে। ধোনি নিঃসন্দেহে সেই বিরল নামগুলোর একটা।
চেন্নাইয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ ১৬ মৌসুমের পথচলায় ধোনি ৫ হাজারের উপর রান করেছেন ৩৯.১৩ গড় এবং ১৩৭.৪৭ স্ট্রাইক রেটে। শিরোপা জিতিয়েছেন পাঁচটা। কিন্তু প্রশ্ন উঠা শুরু করেছে, ধোনির এই কিংবদন্তীসুলভ উপস্থিতিই কি চেন্নাইয়ের ভবিষ্যতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
ধোনির ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সফল মৌসুমের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, তিনি কীভাবে দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ধোনি সাধারণত ব্যাট করতেন চার নম্বরে, যেখানে তিনি গড়ে ১৯ বল খেলতেন। তখন তার স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৪০। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধোনির ব্যাটিং পজিশন ছিল পাঁচে।যেখানে তিনি গড়ে ১৭ বল খেলতেন এবং স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৩৫।
তবে ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ধোনির পজিশন আরও নিচে নেমে আসে। ছয়ে ব্যাট করতেন তিনি। গড়ে বল খেলতেন ১৫টি এবং স্ট্রাইক রেট কমে এসে দাঁড়ায় ১১৫। কিন্তু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। তখন তিনি মূলত সাত নম্বরে নামতেন, যেখানে গড়ে বল খেলতেন মাত্র ১১টি। তবে স্ট্রাইক রেট বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২.৪৬। ২০২৪ সালে সেটা গিয়ে ঠেকে ২২০.৫৫, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ধোনি এখন ইনিংস গড়ার ভূমিকা থেকে সরে এসে একজন স্পেশালিস্ট ফিনিশারে রূপ নিয়েছেন। ২০২৪ সাল থেকে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তার এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। এখন তিনি মূলত সাত বা আট নম্বরে ব্যাট করেন, যেখানে তিনি বলই পান কম। ২০২৪ সালে ধোনি করেছিলেন মাত্র ১৬১ রান, তবে সেটি করেছিলেন ২২০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে।
এখানেই চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে আসল দোটানা। ধোনির জনপ্রিয়তা এতটাই বিশাল যে, প্রতিটি ম্যাচ তার একেকটি বিদায় উৎসবে পরিণত হয়। গ্যালারিতে ‘ধোনি ধোনি’ ধ্বনি, মাঠে তার এক ঝলকের জন্য হাজারো দর্শকের অপেক্ষা। এই আবেগ দল পরিচালনায় কার্যকর হলেও ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করছে।
ধোনির এখন বয়স ৪৩। তার ভূমিকা কার্যত ক্যামিও পর্যন্ত সীমিত। প্রশ্ন হলো, সিএসকে কি এখনো তাকে কেন্দ্র করেই ব্র্যান্ডিং ও দল গড়ার কৌশল তৈরি করবে? নাকি এই আবেগ কাটিয়ে নতুন প্রজন্মের প্লেয়ারদের জায়গা করে দেবে! যারা ভবিষ্যতে ধোনির উত্তরসূরী হতে পারবে।
একদিকে একজন কিংবদন্তিকে সম্মান জানানো, অন্যদিকে দলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন চেন্নাই সুপার কিংসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর ধোনিকে যারা এতদিন ধরে অনুসরণ করেছেন, তাদেরও সময় এসেছে বুঝে নেওয়ার,ধোনি নিজেই বদলে গেছেন।

ভক্তদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। কারণ এক জায়গায় থেমে থাকলে দলের অগ্রগতি থেমে যেতে পারে, আর সেটা ধোনি হয়তো কখনোই চাইবেন না।










