ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন নিয়মের ফাঁদে আটক কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটাররা। ব্যাটের গেজ টেস্টে ব্যর্থ হয়ে, বদলাতে হয়েছে ব্যাট। সুনীল নারাইন, আন্দ্রে রাসেল ও এনরিখ নর্কিয়াকে ব্যাট বদলাতে দেখা গেছে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্যেই।
১১২ রানের স্বল্প মাত্রার লক্ষ্যমাত্রাও টপকাতে পারেনি কলকাতা। অথচ তাদের দলে রয়েছেন নামকরা সব মারকুটে ব্যাটার। সুনীল নারাইন ও আন্দ্রে রাসেল তো বাউন্ডারির হাঁকানোর ওস্তাদ। কিন্তু আইপিএলের নতুন নিয়মে তাদের সেই ওস্তাদিতে ব্যঘাত ঘটিয়েছে।
ব্যাটের সঠিক পুরুত্ব ও বক্রতা পরিমাপের জন্যে গেজ টেস্ট সিস্টেম নিয়ে হাজির হয়েছে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। এখন থেকে ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ারদের কাছে ব্যাটের পুরুত্ব পরিমাপের একটা বিশেষ পরিমাপক যন্ত্র থাকবে। ত্রিভুজাকৃতির প্লাস্টিকের সেই যন্ত্র দিয়ে যাচাই করা হয়, ব্যাটের পুরুত্ব ২.৬৮ ইঞ্চি, ব্যাটের প্রস্থ ৪.৩৩ ইঞ্চি, সাইডের পুরুত্ব ১.৬১ ইঞ্চি ও নিচের দিকের কার্ভ ০.২০ ইঞ্চির মধ্যে রয়েছে কি-না।

এই পরিমাপের মধ্যে না হলে, সেই ব্যাট নিয়ে এবারের আইপিএলে অন্তত কোন ব্যাটারই ব্যাটিং করতে পারবেন না। সে নিয়মের বাস্তবায়ন দেখা গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্ষেত্রে। ব্যাটিং ইনিংসের একেবারে শুরুতে সুনীল নারাইনের ব্যাট পরিমাপ করে দেখা যায় সেটি মাপ অনুযায়ী নেই। পাশেই থাকা আংকৃষ রঘুবনশির ব্যাট মেপে সঠিক মাপই পাওয়া যায়।
এরপর যখন আবার আন্দ্রে রাসেল ব্যাট করতে আসেন, তখনও তার ব্যাট পরিমাপ করা হয়। তার ব্যাটেরও মাপ ঠিক না থাকায়, ব্যাট পরিবর্তন করতে হয়। সর্বশেষ এনরিক নর্কিয়াও ব্যাট পরিবর্তন করেই তবে বাইশ গজে দাঁড়াতে পেরেছেন।
একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে আইপিএল গভর্নিং বডি। তাছাড়া কেউ অবৈধ ফায়দা নিচ্ছে, এমন ভাবনা সৃষ্টি না যাতে না হয়, ঠিক সে কারণেই ব্যাট পরিমাপকের এই নিয়ম ম্যাচের মধ্যেই চালু করেছে আইপিএল।

কেননা আগেও এই নিয়ম ছিল, তবে সেক্ষেত্রে ম্যাচের আগের দিন কিংবা ম্যাচের আগে পরিমাপ করা হতো ব্যাট। সেই নিয়মের ফাঁকফোঁকর দিয়ে ব্যাটাররা ভিন্ন ব্যাট নিয়েই মাঠে নামতেন। নতুন এই নিয়মের ফলে তুলনামূলক বেশি পুরুত্বের ব্যাট দিয়ে খেলার রাস্তা মোটামুটি বন্ধ হয়ে গেল।











