পারিশ্রমিক ইস্যু বিপএলের মান বাড়ার ক্ষেত্রে বড় বাঁধা

এই পারিশ্রমিক ইস্যু রীতিমত আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে বিপিএলকে। আর তাইতো দ্বিতীয় প্রাচীনতম ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হয়েও, বিপিএল থেকে যায় গণনার বাইরে। স্থান পায় দশ নম্বরে। 

এখন তো অবস্থান দশ নম্বরে। তবে ভবিষতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চলে যেতে পারে সেরা দশের বাইরেও। তার জন্য অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইস্যু। বিপিএল আর খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না করার ইস্যু যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বাদশ বিপিএলে বিতর্ক তুলনামূলক কম ছিল। ফিক্সিং ইস্যু কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে বিসিবি। সেখানে সফলতা এসেছে বটে। কিন্তু বোর্ড পরিচালকের ফিক্সিংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টটিকে। এরপরই আবার সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বিতর্ক।

টুর্নামেন্টের মাঝপথে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির পারিশ্রমিক ইস্যুতে ফেরত চলে গিয়েছিলেন নিজ দেশে। সিলেট টাইটান্সের এই পেসারের পর, আরেক পাকিস্তানি ইমাদ ওয়াসিমও পাওনা টাকা বুঝে না পেয়ে এক প্রকার ক্ষোভ নিয়ে ফিরেছেন দেশে। ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে এবারের আসর খেলেছিলেন ইমাদ।

ঢাকা ক্যাপিটালস নিজেদের কোন খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিকই দেয়নি ঠিকঠাক। মোটে ২৭ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছে তারা। যদি ঢাকা তাদের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে, তবে বিসিবিতে ফ্রাঞ্চাইজিটির গচ্ছিত তিন কোটি টাকা থেকেই বিসিবি পরিশোধ করবে বেতনাদি।

অন্যদিকে বিপিএলের নবাগত দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসও পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেয়নি খেলোয়াড়দের। উপরন্তু তারা আবেদন জানিয়েছে যেন বিসিবির কাছে জামানত হিসেবে রাখা অর্থ থেকেই খেলোয়াড়দের পাওনাদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অথচ, বিপিএলের নিয়মে স্পষ্ট বর্ণনা করা রয়েছে যে, লিগ পর্ব শেষ হওয়ার আগে ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দিতে হবে খেলোয়াড়দের। কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কাই করে না কোন ফ্রাঞ্চাইজি।

এমনকি দশ কোটি টাকা জামানত রাখা রংপুর রাইডার্সও খেলোয়াড়দের ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করেনি। এই যখন অবস্থা তখন বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাগ্রহ বাড়া তো অস্বাভাবিক নয়। আর মানসম্মত খেলোয়াড় বিপিএল খেলতে না এলে, লিগের মান বাড়বে কি করে?

ঐ একই বৃত্তে আটকে থেকে যাবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এই পারিশ্রমিক ইস্যু রীতিমত আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে বিপিএলকে। এ বেগতিক পরিস্থিতি কোন পরিত্রাণের উপায় এখনও খুঁজে বের করতে পারেনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কিংবা বিসিবি। আর তাইতো দ্বিতীয় প্রাচীনতম ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হয়েও, বিপিএল থেকে যায় গণনার বাইরে। স্থান পায় দশ নম্বরে।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link