গ্ল্যামার নয়, পিএসজির ভরসা একতা!

পিএসজির- চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সেই বহুল আলোচিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্লাবটিকে ঠেলে দিয়েছিল কোচ বদলের চক্রে। টুখেল, পচেত্তিনো, গালতিয়ের— কেউই টিকতে পারেননি বেশিদিন। এনরিক এলেন সেই প্রেক্ষাপটে, যখন গ্যালাক্টিকো ভরসার যুগ শেষ করে পিএসজি চাচ্ছিল নতুন কিছু করতে।

পিএসজির- চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সেই বহুল আলোচিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্লাবটিকে ঠেলে দিয়েছিল কোচ বদলের চক্রে। টুখেল, পচেত্তিনো, গালতিয়ের— কেউই টিকতে পারেননি বেশিদিন। এনরিক এলেন সেই প্রেক্ষাপটে, যখন গ্যালাক্টিকো ভরসার যুগ শেষ করে পিএসজি চাচ্ছিল নতুন কিছু করতে।

আর এসেই প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি শুনলেন সেই চিরচেনা প্রশ্ন— ‘এই পিএসজি কি পারবে ইউরোপ জয় করতে?’

এনরিকে তখনই বলে দেন, ‘যখন কোনো ক্লাব কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে, সেটা ভালো কিছু বয়ে আনে না। উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা জরুরি, কিন্তু আসক্তি নয়।’

তিনি দায়িত্ব নিয়ে বিদায় দিলেন লিওনেল মেসি, নেইমার ও সার্জিও রামোসকে। এক মৌসুমেই স্কোয়াড ঢেলে সাজানো হলো— প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে। তরুণ, গুণসম্পন্ন, এবং ফরাসি খেলোয়াড়দের দিকেই ঝুকলো পিএসজি।

এনরিকের এমন বাজি কাজ করতে শুরু করে। গত মৌসুমে পিএসজি লিগে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ হারেনি— ইতিহাসে প্রথমবারের মতো। চ্যাম্পিয়নস লিগে উঠেছিল সেমিফাইনাল পর্যন্ত, তিন মৌসুম পর। রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পরপর দুই মৌসুমের ব্যর্থতা ভেঙে ফেলে এনরিকে পৌঁছে দেন সেমিফাইনালে।

তবে ডর্টমুন্ডের কাছে দুই লেগেই ১-০ গোলে হেরে বিদায় জন্ম দিয়েছিলো কিছু হতাশা। বিশেষ করে তখন যখন দলে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি একাই করেছিলেন আটটি গোল। পুরো দল মিলে করেছিল মাত্র এগারো।

তারপর আসে সেই ঘোষণাটি— এমবাপ্পে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদে। ঠিক আগের মৌসুমে যেমন গিয়েছিলেন মেসি।এত বড় তারকা হারানো, বিশেষ করে যিনি একাই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন— সেটাকে অনেকেই পিএসজির জন্য ধ্বংসের শঙ্কা ভেবেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক উল্টোটা।

ডান দিকের উইঙ্গার হিসেবে পরিচিত উসমান ডেম্বেলেকে এনরিকে পরিণত করলেন একজন ফিনিশার হিসেবে। গত পাঁচ মৌসুমে যার মোট গোল ছিল মাত্র ২৮টি, সেই ডেম্বেলে এবার এক মৌসুমেই করলেন ৩৩ গোল। যে গোলের শূন্যতা এমবাপ্পে রেখে গিয়েছিলেন, সেটি অনেকটাই পূরণ করে দিলেন এই ফরাসি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম পাঁচ ম্যাচে পিএসজি জিতেছিল মাত্র একটিতে। এরপর তাদের বাঁচতে হলে লাগাতার পারফরম্যান্স দিতে হতো। আর ঠিক তখনই টানা তিন জয়ে ঘুরে দাঁড়ালো এনরিকের শিষ্যরা। পুরো মৌসুমজুড়ে বড় নাম নয় তারা খেলেছে দল হয়ে। তাই তো সবার মধ্যেই আত্মবিশ্বাস জেগে উঠেছে —খেলাটা তো এগারো জনের।

সেই পুরনো প্রশ্নটা তাই তো আবার ফিরে এসেছে, ‘এই পিএসজি কি পারবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে?’ বছর খানেক আগেও উত্তরটা ছিল অস্পষ্ট। কিন্তু এখন তারা জানে, কিভাবে দল গড়তে হয়, কিভাবে লড়াই করতে হয়। তাই তো উত্তরটা, এই ধারা বজায় রাখলে হয়তো পিএসজি জিততেও পারে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link