রাজনীতি ভুলে জয়াসুরিয়া এখন শুধুই ‘লঙ্কান’

জয়াসুরিয়া মনে করেন, ওই সময়টা ভুল ছিল। এই ভুল তিনি আর করতেই চান না। নিজের সমর্থন আর ভাগ করতে রাজি নন তিনি।

রাজনীতির ময়দানে যাওয়া ভুল ছিল। সনাথ জয়াসুরিয়া এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর মত সেই একই ভুল সাকিব আল হাসান কিংবা মাশরাফি বিন মুর্তজাও করেছেন বলে মনে করেন।

নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছেন জয়াসুরিয়া। তাঁর ধ্যান জ্ঞান আবারও এখন ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কা দলের সার্বিক উন্নতিই এখন জয়াসুরিয়ার মূল লক্ষ্য।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবসরের পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট চলে গিয়েছিল খাদের কিনারায়। র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থেকে তাঁরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও খেলতে পারেনি। সেখান থেকে ফিরে এসে দলটা এখন ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের চার নম্বর দল। শ্রীলঙ্কার এই সাফল্যের রূপকার সনাথ জয়াসুরিয়া।

চান্দিকা হাতুরুসিংহের ছোবলে তখন টালমাতাল ছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল জয়াসুরিয়াকে।

শুরুটা ভাল হয়নি, ৩-০ ব্যবধানে ভারতের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে গিয়েছিল লঙ্কানরা। কিন্তু এরপরই বদলে যায় সবকিছু, ওয়ানডে ফরম্যাটে ভারতকে ২-০ তে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় স্বাগতিকরা। সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ভাল অবস্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা।

হঠাৎ এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন কিভাবে, বছর দুয়েক আগেও ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কা পরাশক্তি রূপে আবির্ভূত হলো কি করে – উত্তর খুঁজতে চোখ রাখতে হবে জয়াসুরিয়ার ভিশন আর পরিকল্পনার ওপর।

দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা আর সংস্কৃতিতে আমূল বদল এনেছেন। ঐচ্ছিক অনুশীলনের নিয়ম বাদ দিয়েছেন, শিষ্যদের বাধ্য করেছেন দলের প্রতি আরও নিবেদিত হতে।

মোটের ওপর চারটি ভিত্তি স্থাপন করেছেন এই কিংবদন্তি – ফিটনেসে উন্নতি, ফিল্ডিংয়ে উন্নতি, রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে তীক্ষ্ণতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলার প্রতি দলের প্যাশন পুনরুজ্জীবিত করা।

এই কাঠামোগত পরিবর্তন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে কেবল শৃঙ্খলাই তৈরি করেনি বরং মানসিকতাকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষুধা তৈরি হয়েছে আবারও, যা লম্বা সময় ধরে অনুপস্থিত ছিল।

আরেকটা বড় ব্যাপার হল, মাতারা হারিকেন দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। ভরসা রেখেছেন দলের তরুণ প্রতিভার ওপর। বাংলাদেশের দু:সময় কাটাাতেও সেটাই করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি। বললেন, ‘মূল ব্যাপার হল খেলোয়াড়দের ভরসা যোগাতে হবে, আত্মবিশ্বাস দিতে হবে। বাজে সময় শ্রীলঙ্কারও এসেছে, আমরা রিকভার করেছি। এই ধারা পাল্টাতে হবে।’

বাংলাদেশ দলকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে জয়াসুরিয়া। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটাররা অবসরে গিয়েছেন। তরুণদের নিয়ে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। এই দলটা ভাল তাঁদের সময় দিতে হবে।’

যদিও, এই সিরিজে খুব একটা সময় আর পাচ্ছে না বাংলাদেশ। জয়াসুরিয়া নিজেও বাংলাদেশকে এই সিরিজে ‘সেটল ডাউন’ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন না একদমই!

২০১০ সালেই রাজনীতিতে আসনে লঙ্কান এই অলরাউন্ডার। মাতারা জেলা থেকে প্রার্থী হিসেবে সেবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন মাতারা হারিকেন। প্রচণ্ড জনপ্রিয় হওয়ায় জিতেও যান। পরবর্তীতে মাহিন্দা রাজাপাকশের সরকারের অধীনে উপমন্ত্রী ছিলেন জয়াসুরিয়া। তখন বেশ নিন্দিতও হন।

সাংসদ হওয়ার পরেও ২০১১ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে খেলে গেছেন জয়াসুরিয়া। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ছাড়া অনান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও খেলে গেছেন। জয়াসুরিয়া মনে করেন, ওই সময়টা ভুল ছিল। এই ভুল তিনি আর করতেই চান না। নিজের সমর্থন আর ভাগ করতে রাজি নন তিনি।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link