সালাহউদ্দিনের ব্যস্ততা, সত্যি নাকি ভ্রম!

আদতে সালাহউদ্দিন কি নিজের কাজটা ঠিকঠাক করছেন, নাকি এই সকল ব্যস্ততা স্রেফ লোক দেখানো? আজ না হোক কাল এমন প্রশ্নের উদ্রেক ঘটলে বিস্মিত হওয়ার উপায় অন্তত থাকবে না। দিনশেষে সবাই তো চায় ফলাফল।

গায়ের সাথে জুড়ে আছে ‘দেশসেরা কোচ’ তকমা। খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের বিচ্যুতি ঘটলেই মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নিকট ছুটে যাওয়া- এমন নজির তো আর কম নেই। সেই সুনাম থেকেই গেল বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

প্রথম অ্যাসাইন্টমেন্ট ছিল সুদূর ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত তার জাতীয় দলের যাত্রাকে ঠিক অম্ল-মধুর বলার উপায় নেই। মধুরতা যেন অমাবস্যার চাঁদ। টেস্টে স্রেফ দুইটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। কিংসটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টাই সবচেয়ে বড় হাইলাইটস। আরেকটা জয় এসেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঘরের মাটিতে।

তবে সবচেয়ে দুর্দশা ওয়ানডে ফরম্যাটে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি জয় ছাড়া, আরও আটটি ম্যাচে পরাজিত বাংলাদেশ। সালাউদ্দিনের সেই ম্যাজিক টাচ যেন নিষ্ফলা। বাংলাদেশের ঘরোয়া সার্কিটের সফলতম কোচ যেন নিজের ইনপুট ঠিকঠাকভাবে দিতেই পারছেন না।

যদিও গোটা দলের এই দুরবস্থার সম্পূর্ণ দায় কোনভাবেই তার একার নয়। গোটা ইউনিট হিসেবেই বাংলাদেশ দলের নাজেহাল অবস্থা। তবুও দায়িত্ব পালনে সালাহউদ্দিনের কোন গাফিলতি চোখে পড়বে না। তিনি প্রতিটা মুহূর্তে ব্যস্ত থাকেন।

খেলোয়াড়দের অনুশীলনের পরিকল্পনা সাজানো থেকে শুরু করে, কার কোথায় ভুল হচ্ছে সেসব ধরিয়ে দিতে কার্পণ্য নেই। কিন্তু ওই যে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মানসিকতার দৈন্যদশা, সে কারণেই সম্ভবত ফলাফলের বেহাল দশা। যদিও একটা ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তবুও সালাহউদ্দিনদের তো দায়িত্ব দলকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরানো।

আদতে সালাহউদ্দিন কি নিজের কাজটা ঠিকঠাক করছেন, নাকি এই সকল ব্যস্ততা স্রেফ লোক দেখানো? আজ না হোক কাল এমন প্রশ্নের উদ্রেক ঘটলে বিস্মিত হওয়ার উপায় অন্তত থাকবে না। দিনশেষে সবাই তো চায় ফলাফল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link