মেসির ফুটবল সাম্রাজ্যের বিস্তার

যখনই মনে হয় তার পায়ের ছন্দ ফুরিয়ে আসছে, তখনই তিনি নতুন কোনো রূপে হাজির হন। তবে এবার রূপটা গোলদাতার নয়, বরং একজন সুনিপুণ নির্মাতার।

লিওনেল মেসি কি কেবল মাঠের জাদুকর? গত দুই দশকের ফুটবল মহাকাব্য যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে থাকে, তবে তা হলো – মেসির কোনো অন্ত নেই। যখনই মনে হয় তার পায়ের ছন্দ ফুরিয়ে আসছে, তখনই তিনি নতুন কোনো রূপে হাজির হন। তবে এবার রূপটা গোলদাতার নয়, বরং একজন সুনিপুণ নির্মাতার।

বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখার দিন ঘনিয়ে এলেও, ফুটবল থেকে দূরে থাকা তার পক্ষে যে অসম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ডাগআউটের ওপারে বসে ট্যাকটিকস সাজানোর চেয়ে মেসি বেছে নিচ্ছেন ক্লাবের ডিরেক্টর বক্সে বসে পুরো ফুটবলার তৈরির কারখানা গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ।

মেসির ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল কাতালুনিয়ার লাল-নীল জার্সিতে। সেই চেনা মাটির টানেই কি না, তিনি বেছে নিলেন স্পেনের পঞ্চম বিভাগের ক্লাব ইউই করনেলা। বার্সেলোনা শহর থেকে মাত্র ৫০ মাইল দূরে ১৯৫১ সালে মাথা তোলা এই ক্লাবটির বর্তমান অভিভাবক এখন স্বয়ং মেসি। গত বৃহস্পতিবার ক্লাবটি তাদের ওয়েবসাইটে এক ঘোষণায় জানায়, মেসি এখন তাদের মালিকানার প্রধান কাণ্ডারি।

এটি কেবল একটি দল কেনা নয়, বরং কাতালুনিয়ার প্রতি তার সেই পুরনো ঋণ শোধের এক মাধ্যম। ক্লাবটি বর্তমানে ‘তেরসেরা আরএফইএফ’ এ লড়ছে। বর্তমানে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা এই ক্লাবটিকে নিয়ে মেসির লক্ষ্য অনেক বড় – একটি টেকসই পরিকাঠামো এবং স্থানীয় প্রতিভাদের বিশ্বমঞ্চে তুলে আনা।

করনেলা মেসির ফুটবল মানচিত্রের একমাত্র বিন্দু নয়। তার এই নেশা বা পেশা ছড়িয়ে আছে আটলান্টিকের দুই পাড়েই। উরুগুয়ের সবুজ ঘাসে বন্ধু লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে গত বছর গড়ে তুলেছেন দেপোর্তিভো এলএসএম। ক্লাবটি গত বছর চতুর্থ বিভাগ থেকে পদোন্নতি পেয়ে জানান দিয়েছে, মেসির হাত যার মাথায় থাকে, তার ভাগ্য বদলাতে সময় লাগে না।

শিকড়ের টান মেসি ভোলেননি কখনোই। নিজের শহর রোজারিওতে ২০১৫ সালে শুরু করেছিলেন ‘লিওনেস ডি রোজারিও এফসি’। যে চারাগাছটি রোপণ করেছিলেন এক দশক আগে, সেটি আজ মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে। এই বছরই ক্লাবটি আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিভাগ ‘প্রাইমেরা সি’ তে যোগ দিয়ে পেশাদার ফুটবলের আঙিনায় পা রেখেছে।

ফুটবলার হিসেবে মেসির যে অধ্যায়টি আমরা চিনি, তা হয়তো সময়ের নিয়মে শেষ হবে। কিন্তু এই নতুন মেসি,  যিনি এখন ক্লাবের কাঠামো গড়েন, ভবিষ্যৎ তারকাদের স্বপ্ন দেখান – তিনি রয়ে যাবেন আরও দীর্ঘকাল। মাঠের ড্রিবলিং ছেড়ে তিনি এখন শুরু করেছেন প্রশাসনিক ড্রিবলিং। গন্তব্য সেই একটাই – ফুটবলকে নিজের মতো করে শাসন করা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link