নিশুতি শেষে ইউরোপের আকাশে লাল সূর্য

দীর্ঘ দুই বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের আভিজাত্যের মঞ্চ ‘উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ এ আবারো ফিরছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

লন্ডনের রাতের আকাশে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের এক কোণে লাল জার্সিধারী সমর্থকদের উল্লাস বলে দিচ্ছিল – এ কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, এ এক হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার আনন্দ। দীর্ঘ দুই বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের আভিজাত্যের মঞ্চ ‘উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ এ আবারো ফিরছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চেলসির বিপক্ষে তাদেরই মাঠে ১-০ গোলের এই জয় রেড ডেভিলদের জন্য রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের টিকিট নিশ্চিত করল।

গত দুই মৌসুমে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অনুপস্থিতি সমর্থকদের হৃদয়ে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, আজ যেন তার উপশম হলো। যদিও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের এই লড়াইয়ে আধিপত্যের চেয়ে টিকে থাকার লড়াই-ই মুখ্য ছিল। কিন্তু মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা জয় ছিনিয়ে নিয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করল।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে প্রথমার্ধে। মাঝমাঠের জেনারেল ব্রুনো ফার্নান্দেস আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি এই দলের প্রাণভোমরা। তার নিখুঁত এক কাট-ব্যাক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ম্যাথিউস কুনহা। এই একটি গোলই ইউনাইটেডকে পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

ইনজুরিতে জর্জরিত ইউনাইটেড শিবিরে রক্ষণভাগ সাজানো নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে কোচ মাইকেল ক্যারিককে। অভিজ্ঞ নুসাইর মাজরাউইয়ের পাশে আনকোরা তরুণ আইডেন হেভেনকে নামিয়ে এক প্রকার ঝুঁকিই নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই নড়বড়ে রক্ষণভাগই শেষ পর্যন্ত চেলসির একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে দুর্গ আগলে রেখেছে।

বিপরীতে, চেলসির জন্য রাতটি ছিল নীল বেদনার। টানা চতুর্থ লিগ পরাজয়ে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ হওয়ার পথে। লিগ টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়া ব্লুজদের পারফরম্যান্স আর প্রত্যাশার মধ্যে এখন বিশাল ব্যবধান।

লিডসের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে এই জয় ইউনাইটেডকে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করল। সিজনের একদম অন্তিম লগ্নে এসে নিজেদের ভাগ্য এখন রেড ডেভিলদের নিজেদের হাতেই। দুই বছর পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আবারো যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের থিম মিউজিক বাজবে, তখন এই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের লড়াইটিকেই হয়তো টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link