ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন এক রোমান্টিক উপাখ্যান হলো ‘প্রত্যাবর্তন’। কখনো তা হয় কোনো বীরের ঘরে ফেরা, কখনো বা হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের নতুন রণকৌশল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রাজকীয় আঙিনায় তেমনই এক প্রত্যাবর্তনের সুর গুঞ্জরিত হচ্ছে। পর্তুগালের নামজাদা ক্রীড়া দৈনিক ‘রেকর্ড’ এর সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ-আউটে আবারও দেখা যেতে পারে পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড হোসে মরিনহোকে।
২০১০ থেকে ২০১৩ – এই তিনটি বছর রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে ছিল এক ঝোড়ো অধ্যায়। বার্সেলোনার একাধিপত্য চুরমার করে দিয়ে মরিনহো যখন মাদ্রিদকে লা লিগার শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, তখন তা ছিল এক মহাকাব্যিক জয়। সেই স্মৃতি আজও মাদ্রিদিস্তা সমর্থকদের মনে অমলিন। বর্তমানে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার দায়িত্বে আছেন এই স্পেশাল ওয়ান।
মরিনহো মানেই সংবাদ সম্মেলনে কথার ফুলঝুরি আর বুদ্ধির লড়াই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মৌসুম শেষে তার পরিকল্পনা সম্বন্ধে। সাংবাদিক তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন বেনফিকা ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।

উত্তরে মরিনহো নিজের ট্রেডমার্ক স্টাইলে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘আপনি কি কথা দিতে পারেন যে আপনি আপনার বর্তমান কর্মস্থলেই সবসময় থাকবেন?’ সাংবাদিকের সরল উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, কারণ আমাকে কেউ নিতে চায় না।’ উপস্থিত সবাই যখন হোহো করে হেসে উঠলেন, মরিনহোর অট্টহাসি যেন বলে দিচ্ছিল ফুটবলে আসলে কোনো কিছুরই গ্যারান্টি নেই। এই রহস্যময় হাসিতেই লুকিয়ে ছিল রিয়ালে ফেরার হাজারো ইঙ্গিত।
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মরিনহো মানেই বিতর্ক। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানিকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদের যে জলঘোলা হয়েছিল, সেখানে মরিনহোর ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু সময় যেন সব ক্ষত শুকিয়ে দেয়।
রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান আকাশটা আজ বড্ড মেঘাচ্ছন্ন। জাভি আলোনসোকে বিদায় করে দিয়ে মৌসুমের মাঝপথে আরবেলোয়ার হাতে ব্যাটন তুলে দিয়েও কাটেনি অন্ধকারের অমানিশা। টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিশূন্য থাকা মাদ্রিদ যেন পথ হারানো এক নাবিক, যার পাল ছিঁড়ে গেছে মাঝসমুদ্রে।

এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজকীয় আভিজাত্য পুনরুদ্ধারে এখন আর কোনো সাধারণ সেনাপতি নয়, বরং দরকার হোসে মরিনহোর মতো এক আপসহীন ও রূঢ় যোদ্ধাকে। যার হাত ধরে খাদের কিনার থেকে আবারও সাফল্যের এভারেস্টে আরোহণ করবে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। মাদ্রিদ কি তবে তার সেই হারানো ত্রাতার হাতেই সঁপে দিচ্ছে আগামীর চাবিকাঠি? সময়ের চাকা হয়তো সেই উত্তরটা এখনই লিখে রেখেছে।











