ইতিহাদে আর্তেতার অগ্নিপরীক্ষা

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যখন ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল, সেটি কেবল টেবিলের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই থাকবে না। বরং সেটি হবে আর্তেতার কোচিং ক্যারিয়ারের এবং গানার্সদের নতুন ইতিহাসের এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।

ফুটবল বিধাতা কি মিকেল আর্তেতার জন্য এক কঠিন চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন? একদিকে গত কয়েক বছরের অসামান্য উন্নতি, অন্যদিকে ঠিক শেষ মুহূর্তে এসে বারবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। রবিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যখন ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল, সেটি কেবল টেবিলের শীর্ষস্থান দখলের লড়াই থাকবে না। বরং সেটি হবে আর্তেতার কোচিং ক্যারিয়ারের এবং গানার্সদের নতুন ইতিহাসের এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।

সাড়ে ছয় বছর। হাতে প্রাপ্তি বলতে সেই শূন্য গ্যালারির এফএ কাপ। এরপর বারবার স্বপ্ন জাগিয়েও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি গানার্সদের। ২০২৪ সালে সিটির মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফেরাটাকে সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, দিনশেষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সিটিই।

এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করার বিলাসিতা আর্তেতার নেই। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র এক বছর, অথচ বড় ম্যাচে বারবার খেই হারানোই এখন আর্তেতার বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত ৩৩ বছরের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের ইতিহাস বলছে, শিরোপা জিততে হলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে গড়ে অন্তত ১৮ পয়েন্ট দরকার। আর্তেতা তার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদে কখনোই এই গণ্ডি পার হতে পারেননি।

চলতি মৌসুমেও সিটির বিপক্ষে নামার আগে শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১২ পয়েন্ট। গ্যারি নেভিলের ভাষায়, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে হলে প্রতিপক্ষকে সজোরে আঘাত করতে হয়।’ স্রেফ রক্ষণ আগলে ড্র করা আর্তেতাকে হয়তো নিরাপদ রাখবে, কিন্তু সেরা বানাবে না।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের গ্যারেথ সাউথগেটের মতো আর্তেতাও যেন এক ট্র্যাজেডির নায়ক। দল বদলেছে, খেলার ধরন বদলেছে, কিন্তু টুর্নামেন্টের মোক্ষম সময়ে এসে তারা নার্ভাস হয়ে পড়ছে। সিটির কাছে কারাবাও কাপের ফাইনাল কিংবা সাউদাম্পটনের কাছে এফএ কাপ থেকে বিদায় – আর্তেতার ডাগআউটে সাফল্যের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বারবার।

রবিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ঘাসে যখন যুদ্ধের দামামা বাজবে, তখন মিকেল আর্তেতার সামনে কেবল ম্যানচেস্টার সিটি নয়, দাঁড়িয়ে থাকবে তার নিজের গড়া এক ধূসর ইতিহাস। গত ২০ বছরের মধ্যে আর্সেনালের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচটি স্রেফ তিন পয়েন্টের হিসাব নয়, এটি আর্তেতার সামর্থ্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link