তবুও আরবেলোয়াতেই ভরসা এমবাপ্পেদের

চারদিকে যখন আরবেলোয়ার বিদায় ঘণ্টা বাজার প্রবল গর্জন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকারা একাট্টা হয়েছেন তাদের সেনাপতির ঢাল হয়ে।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই চিরচেনা রাজকীয় শুভ্রতায় আজ যেন গোধূলির ম্লান ছায়া। যে ক্লাবটি প্রতি বছর তাদের ট্রফি ক্যাবিনেটে নতুন সাফল্যের মহাকাব্য লিখত, ২০২৬ সালের এই কালবেলায় সেখানে কেবলই এক রিক্ত হাহাকার। অথচ এই চরম ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বার্নাব্যুর ড্রেসিংরুমে বইছে এক অদ্ভূত ও মায়াবী সংহতির হাওয়া। চারদিকে যখন আরবেলোয়ার বিদায় ঘণ্টা বাজার প্রবল গর্জন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকারা একাট্টা হয়েছেন তাদের সেনাপতির ঢাল হয়ে।

কোয়ার্টার ফাইনালে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই চিরচেনা সুর এবার থামিয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, স্প্যানিশ সুপার কাপের মোহময় ফাইনালে পৌঁছেও সোনালী ট্রফিটির স্পর্শ পাওয়া হয়নি মাদ্রিদিস্তাদের। লা লিগার টেবিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে নয় পয়েন্টের সেই যোজন যোজন দূরত্ব রিয়াল মাদ্রিদের হৃদয়ে এক গভীর ও রক্তাক্ত ক্ষতের মতো বিঁধে আছে।

আলভারো আরবেলোয়া – জাবি আলোনসোকে বিদায় জানানোর পর মৌসুমের মাঝে যাকে ভাবা হয়েছিল মাদ্রিদের হারানো শৌর্য ফেরানোর কারিগর, তার হাতে আজ কেবল পরাজয়ের মালা। অথচ কী বিচিত্র এই ফুটবলীয় নাট্যমঞ্চ! চারদিকে যখন বিদায়ের সানাই বাজছে, তখন ড্রেসিংরুম থেকে আসছে এক অদ্ভূত সংহতির সুর। মার্কার খবর অনুযায়ী, মাদ্রিদের গ্ল্যাডিয়েটররা তাদের সেনাপতির ওপর আস্থা হারায়নি। তারা এখনো চায়, আগামী মৌসুমেও যুদ্ধের ময়দানে তাদের নেতৃত্ব দিন এই স্পার্টান।

খেলোয়াড়দের এই অগাধ ভালোবাসা কি কেবলই শ্রদ্ধা, নাকি এক ডুবন্ত জাহাজের মাঝিকে বাঁচানোর শেষ আকুতি? যখন মাঠের ফলাফল নিষ্ঠুর সত্যের মতো চোখ রাঙাচ্ছে, তখন এই আনুগত্য যেন মরুভূমিতে মরীচিকার মতো এক মায়া।

টানা দুই সিজনে ট্রফিশুন্য রিয়াল মাদ্রিদ! দুই বছরের জন্য ফুটবল খেলা দেখা থেকে বিরত থাকা কোনো ভক্তকে যদি এ কথা বলা হয়। সে বোধহয় বিশ্বাসই করবে না। যে ক্লাবটির হাতে ট্রফি থাকা ছিল ধ্রুবতারার মতো সত্য, তাদের এই রিক্ততা যেন এক রাজকীয় রূপকথার অবিশ্বাস্য ছন্দপতন।

বার্নাব্যুর ঘাসে আজ আর জয়ের উৎসব নেই, আছে কেবল এক দীর্ঘস্থায়ী গোধূলির ম্লান আলো। কিন্তু ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাস দেখুন – যেখানে ট্রফি হারানো মানেই ছিল নির্বাসন, সেখানে আজ পরাজয়ের ছাইস্তূপ থেকে জন্ম নিচ্ছে এক অমর সংহতি। আরবেলোয়া হয়তো মাদ্রিদকে রূপালি ট্রফি দিতে পারেননি, কিন্তু তিনি দিতে পেরেছেন এমন এক ড্রেসিংরুম, যা ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েও রাজকীয় স্পর্ধায় একতাবদ্ধ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link