পরিকল্পনাহীনতার আবর্তে দিশেহারা দেশের ফুটবল

একদিকে জাতীয় দলের প্রস্তুতির দোহাই, অন্যদিকে ঘরোয়া ফুটবলের নিয়মিত সূচি - এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বারবার ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো।

দেশের ফুটবল ক্যালেন্ডার যেন এক অমীমাংসিত ধাঁধার নাম। একদিকে জাতীয় দলের প্রস্তুতির দোহাই, অন্যদিকে ঘরোয়া ফুটবলের নিয়মিত সূচি – এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বারবার ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল কাঠামো। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে ফের সেই চিরচেনা ‘ক্যালেন্ডার ক্রাইসিস’ বা সূচি জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর।

বাফুফের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে ফেডারেশন কাপ এবং ২৩ মে প্রিমিয়ার লিগ (বিএফএল) শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, এরপর নতুন মৌসুমের দলবদল শুরু হতে সময় বাকি থাকবে মাত্র আট দিন। এই যৎসামান্য সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপের মতো বড় দুটি আসর শেষ করার চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে খোদ ফুটবল অঙ্গনেই হাসাহাসি হচ্ছে।

যদিও লিগ কমিটি স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের ক্ষীণ আশার কথা শোনাচ্ছে, কিন্তু পেশাদার লিগের সব দলকে নিয়ে চার গ্রুপের এই টুর্নামেন্ট শেষ করতে অন্তত ২০-২২ দিন প্রয়োজন। ফলে খাতা-কলমে টুর্নামেন্ট দুটি আবারও বাতিলের লাল তালিকায় ওঠার অপেক্ষায়।

বিশ্ব ফুটবলে যখন ফিফা উইন্ডোর বাইরে লিগ বন্ধ রাখার রেওয়াজ নেই বললেই চলে, সেখানে বাফুফে হাঁটছে উল্টো পথে। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ সপ্তাহেরও বেশি সময় লিগ স্থগিত ছিল। কখনও নির্বাচন, কখনও দলবদল, আবার কখনও জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প – মাঠের ফুটবলের চেয়ে বিরতিই ছিল দীর্ঘ।

একজন ফুটবলারের ফিটনেস ও দক্ষতা ধরে রাখতে বছরে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি ম্যাচ খেলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত মৌসুমেও সময়ের অভাবে বড় দুটি আসর বাতিল করেছিল বাফুফে। এবার ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য আবারও লিগের সময় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় দলের ক্যাম্পে।

এতসব তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের খসড়া ক্যালেন্ডারে আবারও সেই পাঁচটি টুর্নামেন্টকেই রাখা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যে সূচি বাফুফে নিজেই বাস্তবায়ন করতে পারে না, তা বারবার কাগজে-কলমে সাজানোর সার্থকতা কোথায়? ঘরোয়া ফুটবল কি তবে শুধুই জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য সময় তৈরির হাতিয়ার হিসেবে রয়ে যাবে?

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link