বাংলার ফুটবল আকাশে এখন নতুন এক শুরুর অপেক্ষা। হাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায়ের যবনিকা ঘটার পর, লাল-সবুজের ফুটবল তরীকে কোন সুনিপুণ মাঝির হাতে তুলে দেওয়া হবে – তা নিয়ে এখন ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে কৌতূহলের অন্ত নেই। হামজা চৌধুরী কিংবা জামাল ভূঁইয়াদের আগামীর দিশারি হতে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের নামীদামী সব কৌশলী।
আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছেন জার্মান ফুটবল জাদুকর অ্যান্টনি হে। কেবল উয়েফা প্রো-লাইসেন্স নয়, তার ঝুলিতে রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলের দীর্ঘ দুই দশকের মাঠের অভিজ্ঞতা। বুন্দেসলিগার শালকের হয়ে মাঠ কাঁপানো এই সাবেক ফুটবলার মায়ানমার ও রুয়ান্ডার মতো দেশের ফুটবল মানচিত্র বদলে দিয়েছেন।
ডাগআউটে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত আরেক জার্মান, বার্ন্ড স্টর্ক। ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে হাঙ্গেরির রূপকথার কারিগর ছিলেন তিনি। কাজাখস্তান ও বেলজিয়ামের ক্লাব ফুটবলে তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।

তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্রোয়াট মাস্টারমাইন্ড ইগর স্টিমাচ। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল আবহের সঙ্গে যার নাড়ির টান। ভারতকে সাফ শিরোপার স্বাদ পাইয়ে দেওয়া এই ৫৮ বছর বয়সী কোচ জানেন এ অঞ্চলের ফুটবলের পালস। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের সাবেক এই কোচের অভিজ্ঞতা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য পাথেয়।
ডাগআউটের দৌড়ে পিছিয়ে নেই ফরাসি কৌশলী দিদিয়ের অলে নিকোলো। ওজিসি নিস কিংবা পিএসজির নারী দলের মতো শীর্ষস্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে এক ভিন্ন উচ্চতা। সেই সঙ্গে পর্তুগিজ কোচ অ্যান্টনিও কন্সেইসাও এর নামটিও বাতাসের গুঞ্জনে ভাসছে। বিদেশিদের ভিড়ে বাংলার ঘরের দুই মুখ – মারুফুল হক ও জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুকে নিয়ে চলছে সূক্ষ্ম কাটাছেঁড়া।
বাফুফের নির্বাহী কমিটির আসন্ন সভাটি স্রেফ একটি বৈঠক নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ফুটবলের এক নতুন বাঁক বদলের লগ্ন। হামজা চৌধুরীর মতো লড়াকু সৈনিকরা যখন দেশের আকাশকে রাঙাচ্ছেন, তখন তাদের প্রয়োজন এমন এক সেনাপতি, যিনি স্রেফ জয় নয় – বরং ফুটবলারদের হৃদয়ে বুনে দেবেন শ্রেষ্ঠত্বের স্বপ্ন।












