শনিবারের গোধূলি বেলায় টটেনহ্যামের জন্য যা ছিল বুকফাটা হাহাকার, সোমবারের তপ্ত দুপুরে তা রূপ নিয়েছে কিঞ্চিৎ স্বস্তিতে। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে যখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে স্পার্স, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট হ্যামের পয়েন্ট হারানো যেন মৃতপ্রায় শিবিরে প্রাণ ফিরিয়ে দিল।
টটেনহ্যামের বস ডি জারবি হয়তো এখনো স্বপ্ন দেখেন টানা পাঁচ জয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের, কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। ২০২৬ সালে এখনো জয়ের স্বাদ পায়নি তার শিষ্যরা; গত ১৫টি ম্যাচের দীর্ঘ জয়হীন মরুভূমি যেন উত্তর লণ্ডনের এই ক্লাবটিকে ৯১ বছর আগের এক বিষাদময় রেকর্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৯৩৪ সালের সেই টানা হারের স্মৃতি আজ আবার ফিরে আসছে প্রেতাত্মা হয়ে।
লিডস ইউনাইটেড ও নটিংহ্যাম ফরেস্ট সাম্প্রতিক জয়ে অনেকটা নিরাপদ অবস্থানে চলে গেলেও লড়াইটা এখনো মূলত ওয়েস্ট হ্যাম ও টটেনহ্যামের মধ্যে। লিডসের হাতে ৩৯ পয়েন্ট থাকায় তারা প্রায় নিরাপদ, কিন্তু ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট হ্যাম এবং ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টটেনহ্যামের ভাগ্য এখনো দুলছে।

আগামী সপ্তাহে অবনমিত উলভসের মুখোমুখি হবে টটেনহ্যাম। এরপর অ্যাস্টন ভিলা আর লিডসের সাথে লড়াই। ভিলা যখন ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের চাপে থাকবে, সেই সুযোগটিই হয়তো লুফে নিতে চাইবে স্পার্স।
অন্যদিকে ওয়েস্ট হ্যামের সামনে দাঁড়িয়ে শিরোপার দাবিদার আর্সেনাল এবং শক্তিশালী নিউক্যাসল। নুনো এসপিরিতো সান্তোর জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া হিমালয় জয়ের মতোই কঠিন।
সাধারণত ৩৬ পয়েন্টে প্রিমিয়ার লিগের জীবনরক্ষা হলেও ওয়েস্ট হ্যামের ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। ২০০২-০৩ মৌসুমে ৪২ পয়েন্ট নিয়েও যে দলটিকে অবনমিত হতে হয়েছিল, তাদের জন্য এবারের প্রতিটি গোল যেন এক একটি অমূল্য রত্ন।

মাঠের লড়াই এখন কেবল বলের পেছনে দৌড়ানো নয়, এটি এখন আভিজাত্য রক্ষার লড়াই। টটেনহ্যাম কি পারবে তাদের অর্ধশতাব্দীর ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরতে, নাকি নতুনের আবাহনে বিসর্জিত হবে ইতিহাসের পাতায়? উত্তরের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।











