১০২ রানের ইনিংস, তার আগে ৫৩! আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু রান পাওয়ার সেই স্বস্তির পরও বাংলাদেশের এই ব্যাটারের জন্য নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ মেলেনি।
ডান হিপ জয়েন্টের সমস্যায় ছিটকে যেতে হয়েছে মরুর দেশে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে। ব্যাট হাতে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত, অথচ মাঠে থাকার নিশ্চয়তা নেই। এভাবেই যেন চলছে লাল-সবুজের সাদা বলের অধিনায়কের দিনকাল।
বারবার চোটে পড়ার এই চক্র থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? লিটনের ক্ষেত্রে কি ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সময় আসেনি? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি, তিন ফরম্যাটে খেলার চাপ এবং দুই ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করার বাড়তি দায়িত্ব।
গত মাসেই এশিয়ান গেমসের মতো টুর্নামেন্টে লিটনকে বিশ্রাম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারত। কিন্তু এখানেই যেন বিসিবির সেই পুরোনো অদূরদর্শিতা দেখা গেল। বাংলাদেশের এই ব্যাটার দলের অপরিহার্য অংশ! তাই তাকে পরিপাটি হিসেবে নিয়মিত মাঠে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য।

এখানেই সামনে আসে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের প্রশ্ন। কোন সিরিজে লিটনকে খেলানো হবে, কখন তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হবে, এসব বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। অবশ্য বিশ্রাম দিলেই যে সব ধরনের চোট এড়ানো সম্ভব, তা নয়। তবে যথাযথ পুনর্বাসন, শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন এবং কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তো রয়েছে।
লিটনের বিকল্পও এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের আশেপাশে নেই। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিং ও নেতৃত্ব; একাধিক দায়িত্ব সামলান তিনি। লিটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তার বিকল্প তৈরির দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
গত বছরের এশিয়া কাপ থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও সিরিজে পাওয়া যায়নি! কখনো পিঠের বাম পাশে স্ট্রেইন, কখনো বাঁ পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-১ টিয়ার, আবার কখনো ডান হিপ জয়েন্টের সমস্যা।
এশিয়া কাপ চলাকালে অনুশীলনে পিঠের বাম পাশে স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন লিটন। চোটের কারণে সুপার ফোরে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারেননি। পরে আফগানিস্তান সিরিজ থেকেও ছিটকে যান তিনি।

চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে বাঁ পায়ের কাফ মাসলে চোট পান লিটন। এই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ে সফরের সাদা বলের ম্যাচগুলো মিস করেন তিনি।
কাফ মাসলের চোট কাটিয়ে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে লিটনকে শতভাগ ফিট ঘোষণা করা হয়। তবে ফেরার পর ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা পেতে সময় লাগে। সেই সিরিজে টানা তিন ডাকের পরে টেস্টে আফগানদের সঙ্গে ফিফটি ও সেঞ্চুরির দেখা মেলে। কিন্তু এই পারফরম্যান্সের পরই আবারও নতুন ধাক্কা!
অধিনায়ককে না পাওয়া নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে সবসময়ই; ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দেখা মিলল সেটার জ্বলন্ত উদাহরণ! সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে তার প্রস্তুতি।
এই বৈশ্বিক আসরে লিটন শুধু দলের অধিনায়কই নন, বাংলাদেশের ভঙ্গুর মিডল অর্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারও! এমন অবস্থায় তাকে বারবার চোটের কারণে হারানো দলের জন্য অনেক বড় দুশ্চিন্তা।












