টটেনহ্যামের সেই ধূসর দিনগুলোতে হ্যারি কেন ছিলেন এক ট্রফিহীন সম্রাট। বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার হয়েও তার হাতে কোনো রুপালি ট্রফি নেই – ফুটবল বিশ্বের এই দীর্ঘশ্বাস যেন মিউনিখের আকাশে এসে পূর্ণতা পেল। টানা দুইবার বায়ার্ন মিউনিখ যখন বুন্দেসলিগা উৎসব করছে, তখন পর্দার আড়ালের নায়ক সেই একজনই।
স্টাটগার্টের বিপক্ষে মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় গোল! এটি কেবল একটি গোল ছিল না, এটি ছিল নিন্দুকদের মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত। চলতি লিগে নিজের ৩২তম গোলটি করে কেন বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাকে এই প্রজন্মের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড অথচ ভয়ংকর স্ট্রাইকার বলা হয়।
লন্ডন ছেড়ে মিউনিখে আসার মূল উদ্দেশ্যটাই ছিল ট্রফি জেতা। সেই লক্ষ্য এখন সফল। লিগ জেতা হয়ে গেছে, আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দল এখন সেমিফাইনালের মঞ্চে। সব মিলিয়ে মৌসুমে ৫১টি গোল! ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে কেনই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এবার ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।

এতদিন বিস্ময়করভাবে ব্যালন ডি অর-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার নামটা অবহেলিত থেকেছে। গোল করলেও ট্রফি নেই – এই অজুহাতে তাকে ব্রাত্য করে রাখা হতো। কিন্তু এবারের গল্পটা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেনের ঝুলিতে এখন লিগ শিরোপা, হাতে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার এওয়ার্ড, আর সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাতছানি।
ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি এবার মিলছে বিশ্বমঞ্চেও। বায়ার্নের আক্রমণভাগে মাইকেল অলিসে এবং লুইস দিয়াজের সাথে কেনের যে রসায়ন, তা বুন্দেসলিগার ইতিহাসে নতুন ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এই ত্রয়ীর সম্মিলিত ৯৪টি গোল কন্ট্রিবিউশন গত চার দশকের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
কেনের এই রূপকথা কেবল গোলবন্যার গল্প নয়, বরং এটি ধৈর্যের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপাখ্যান। যে ট্রফিহীনতার অপবাদ এতদিন তার ছায়াসঙ্গী ছিল, মিউনিখের এই রক্তিম বসন্তে তা চিরতরে ধুলোয় মিশে গেছে। বাভারিয়ান ডেরায় কেন এখন আর কেবল এক নিঃসঙ্গ গোলদাতা নন, বরং তিনি এক বিজয়ী সেনাপতি, যার হাতে শোভা পাচ্ছে সাফল্যের রাজদণ্ড।












