বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ড্রেসিংরুমে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দল যখন তিন সংস্করণে তিন অধিনায়কের পথে হাঁটা শুরু হলো, তখনই ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি জন্ম নিয়েছিল। দলের কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারদের মনে তখন থেকেই শুরু অজানা শঙ্কা।
একসাথে তিন অধিনায়ক মানে তিনটা আলাদা চিন্তা, তিনটা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। এক সংস্করণ থেকে আরেকটায় গেলে মনে হয়, যেন নতুন করে নিজেকে প্রমাণ দিতে হচ্ছে। কার কী চাওয়া, কী পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে একটা অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়।
এই কথাগুলো তখন খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু নয় মাস পর এসে সেই আশঙ্কাগুলোই যেন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ড্রেসিংরুমে এখন এক সুতায় বাঁধা থাকার সেই অনুভূতিটা নেই। অভিযোগ আছে, টেস্টের অধিনায়ক নিজের দল নিয়ে ভাবছেন, ওয়ানডের অধিনায়ক তার নিজের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক আলাদা ছকে হাঁটছেন। ফলে একটা দলের ভেতরে তিনটা আলাদা স্রোত বইছে—যেখানে একসাথে মিলেমিশে যাওয়ার বদলে তৈরি হচ্ছে দূরত্ব।
এই পরিস্থিতি নতুন না। অতীতেও এমন সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু এবার ব্যাপারটা যেন একটু বেশি গভীর। আর এর প্রভাব পড়ছে মাঠে।
সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এখন বোর্ড সভাপতির দায়িত্বে। তিনি এই সমস্যাটা নতুন করে দেখেননি—খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই বিষয়টা জানেন। তাই এবার তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিন অধিনায়ক—নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন কুমার দাস—কে ডেকে একটাই বার্তা দিলেন, পরিকল্পনা সাজাতে হবে এক সাথে মিলে।

সমস্যার শিকড়টা আরও একটু গভীরে। ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের আগে হঠাৎ করেই নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। শান্তকে সরিয়ে ওয়ানডের দায়িত্ব দেওয়া হয় মিরাজকে। এরপর টেস্ট শেষ করেই শান্ত নিজেই নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। সেই সময় থেকেই ড্রেসিংরুমে অস্বস্তির শুরু—যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে হুট করে কাউকে সরানোও সম্ভব না। কারণ বোর্ড আগেই দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছে—শান্ত টেস্ট, মিরাজ ওয়ানডে, লিটন টি-টোয়েন্টি। এই কাঠামো ভাঙতে গেলে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে।
তাই আপাতত সমাধান একটাই—সমন্বয়। অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছেন। এই বাস্তবতা বিসিবিরও অজানা নয়। তবে, আপাতত বিসিবি নতুন কোনো পরিবর্তন চায় না।

তিন অধিনায়ক কি এক সুরে কথা বলতে পারেন কি না, নাকি আলাদা আলাদা সুরে ছন্দ মিলিয়েই এই দলকে এগোতে হবে? সেটাই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।










