ব্যাট হাতে নিলেই মিরাজের কি যেন হয়!

ব্যাট হাতে  মিরাজ যদি ফিরে আসেন, তাহলে এই গল্পটা এখনও বদলানো সম্ভব। কিন্তু, দ্রুতই গল্প না বদলালে অধিনায়ক পরিবর্তনের পথেই হয়ত হাঁটবে বাংলাদেশ দল।

৫৫ রান কোনো বিষয় না। মুখে বললেও কাজে প্রমাণ করতে পারছেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। পাঁকাপাকি ভাবে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে রান করতেই ভুলে গেছেন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ১১ ইনিংসে মিরাজের ব্যাটিং পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মোট রান করেছেন ১৮০ টি। গড় ১৮, স্ট্রাইক রেট ৬৮-এর ঘরে। মাঠে এই ইনিংসগুলোর প্রভাব অনেক বেশি, মিডল ওভারে যখন রান করা দরকার, তখন নিজেকে আটকে ফেলছেন তিনি।

২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে যখন তিনি পুরোপুরি ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেলেন, তখন সেখানে ২০২৭ বিশ্বকাপের ভাবনা ছিল। কিন্তু, এখন বিশ্বকাপের আগেই অধিনায়কত্ব হারিয়ে ফেলার শঙ্কায় আছেন মিরাজ।

মিরাজ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক। তবে, সেই আত্মবিশ্বাস মাঝে কাজে লাগছে না। অধিনায়ক হওয়ার পর যে একটা হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, সেখানেও স্ট্রাইক রেট নিয়ে ইস্যু আছে।

বল হাতে অবশ্য তিনি এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইকোনমি ধরে রাখা, দশ ওভারের কোটা পূরণ করা—এই জায়গাগুলোতে তার দায়বদ্ধতা স্পষ্ট। সমালোচনা থাকলেও এটুকু অস্বীকার করার উপায় নেই, বোলিংয়ে তিনি এখনও দলের সেরা স্পিনারই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে নিজেকে প্রমাণও করেছেন।

কিন্তু, ব্যাটিংয়ের নাম নিতেই সব লবডঙ্কা। তিনি যেখানে ব্যাট করতে নামেন, সেখানে তাঁর পারফরম করার কোনো বিকল্প নেই। গেল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ বলে করেন ছয় রান, যা শেষ পর্যন্ত দলের বিপদ ডেকে আনেন।

ব্যাট হাতে  মিরাজ যদি ফিরে আসেন, তাহলে এই গল্পটা এখনও বদলানো সম্ভব। কিন্তু, দ্রুতই গল্প না বদলালে অধিনায়ক পরিবর্তনের পথেই হয়ত হাঁটবে বাংলাদেশ দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link