শুভমান গিলের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হবে এশিয়া কাপ, যেখানে তিনি খেলবেন সহ-অধিনায়ক হিসেবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুভমান গিলের পদোন্নতি সময়ের অপেক্ষা ছিল মাত্র। সেই ক্ষণটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেই বলা যাবে, গিলই হবেন ভারতের আসন্ন শুভদিনের পতাকাবাহী।
২৩ বছর বয়সী গিল এই মুহূর্তে ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক। সেই অভিজ্ঞতাই যেন টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করেছে। তবে এটাকে হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভাবার কোনো কারণ নেই। গিলের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার, বিশেষ করে আইপিএল পরিসংখ্যানই নির্বাচকদের পক্ষে সাফাই গাইছে।
গত পাঁচ আসরের চারটিতেই গিল ছিলেন আইপিএলের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে। ২০২৩ সালে করেছিলেন ৮৭০ রান—যেটি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিরাট কোহলির ২০১৬ সালে করা ৯৭৩ রান এখনও সবার ওপরে। ২০২৪ মৌসুমে কিছুটা খেই হারালেও বাকিগুলোতে তিনি প্রভাবশালী। এ কারণেই প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারের সামনে গিলকে বাদ দেওয়ার কোনো উপায় ছিল না।

বিশেষ করে আইপিএল ২০২৫ ছিল তার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অধ্যায়। ১৫ ম্যাচে করেছেন ৬৫০ রান, গড় ৫০, স্ট্রাইক রেট ১৫৫.৮৮। ছয়টি অর্ধশতক, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৩। যত দিন গেছে, আইপিএলে রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন তিনি। অবশ্য, রান তোলার গতি এখানে মূখ্য বিষয় নয়। ভারত মূলত টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নতুন বিরাট কোহলি বানাতে চাইছে শুভমান গিলকে।
পুরো ক্যারিয়ারে গিল এখন পর্যন্ত আইপিএলে ১১৮ ম্যাচে করেছেন ৩৮৬৬ রান, গড় ৩৯.৪৫, স্ট্রাইক রেট ১৩৮.৭২। চারটি সেঞ্চুরি, ২৬টি অর্ধশতক। আইপিএলে তার ক্রমবর্ধমান ধারাবাহিকতাই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের জন্য বড় ভরসা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সহ-অধিনায়ক কেন? এর আসল জবাব লুকিয়ে আছে বিসিসিআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায়। গিল টেস্টে যেমন নেতা হয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতেও তাঁকে ভারতের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখছে বিসিসিআই। কার্যত বোর্ড তাঁকে ভবিষ্যতে সব ফরম্যাট অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি, কিংবা রোহিত শর্মার পথেই হাঁটবেন গিল।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপটটা অবশ্য মাঠের বাইরেও আছে। ভারতীয় ক্রিকেট মানে রাজস্ব, ব্রডকাস্ট, স্পনসরশিপ আর ব্র্যান্ড ভ্যালু। প্রতিটি যুগে একজন করে আইকন থেকেছেন—শচীন, সৌরভ, দ্রাবিড়ের পর ধোনি; তারপর কোহলি-রোহিত যুগ। ২০২৪ সালের পর থেকেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছিল ভরত। সেই জায়গায় বোর্ডের মনোনীত প্রার্থী হলেন গিল।
তারুণ্য, ধারাবাহিকতা আর মাঠের ভেতর-বাইরে উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী মুখ। হ্যাঁ, কিছু সংকট এর পরও থাকবে, গিল কোন পজিশনে খেলবেন – ওপেনিং নাকি নাম্বার থ্রি। ওপেনিংয়ে সাঞ্জু স্যামসনের জায়গায় খেললে উইকেটরক্ষক হবেন কে?
বিরাট কোহলি বানানোর আগে গিলকে নিয়ে অনেক প্রশ্নর মুখোমুখিই হবে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে, চ্যালেঞ্জগুলো একবার উৎরে যেতে পারলে গিলই হয়ে উঠতে পারেন, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা চ্যালেঞ্জার!











