এশিয়া কাপের এক্স ফ্যাক্টর পেস ইউনিট!

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের পেসাররা আধিপত্য বিস্তার করছেন। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করবে পেস ইউনিটের পারফরম্যান্সের ওপর।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের পেসাররা আধিপত্য বিস্তার করছেন। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করবে পেস ইউনিটের পারফরম্যান্সের ওপর।

দলের বর্তমান পেস  আক্রমণ বেশ শক্তিশালী, অভিজ্ঞ এবং তরুণ পেসারদের সংমিশ্রণে গঠিত। আসন্ন এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলার পেসাররা ধারাবাহিক ভাবে ভালো করে আসছে।

মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব কিংবা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন- এই পাঁচজনই বাংলাদেশের গতিময় আক্রমণের ভরসা। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার মূল দায়িত্ব এখন তাদের কাঁধে।

মুস্তাফিজুর রহমান স্লো এবং টার্নিং উইকেটে বরাবরই একজন কার্যকরী বোলার। স্লোয়ার এবং কাটারের সাথে, কিপ্টে বোলিংয়ে ব্যাটারদের বেশ চাপে রাখেন তিনি।

তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশের পেস আক্রমণের আরেক ভরসার নাম। গতি এবং দুর্দান্ত লাইন-লেন্থে ব্যাটারদের পরাস্থ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে পেস ইউনিটের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সম্প্রতি পাকিস্তান সিরিজে দুই ম্যচে উইকেট নিয়েছেন ছয়টি। ১০ গড়ের সাথে, ইকোনমি ছিল আট। তবে ফিটনেস ইস্যুতে বেশ ভুগছেন তাসকিন।

শরিফুল ইসলামও হতে পারেন ভরসার নাম। নতুন বলে দুর্দান্ত সুইং ও বাউন্সারে ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জের মুখে ছুঁড়ে দেন তিনি।  এবছরে বল হাতে আট ম্যাচে ১৭.৫০ গড়ের সাথে ৭.৯২ ইকোনমিতে উইকেট নিয়েছেন ১২ টি। বেশ ধারাবাহিকতার সাথে পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নতুন ঝলক তানজিম হাসান সাকিব। বলে হাতে নিখুঁত লাইন-লেন্থের সঙ্গে তাঁর আগ্রাসী শরীরী ভাষা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেয়। শুরুর দিকে বেশ ভালো সূচনা এনে দিতে পটু তিনি। এছাড়াও মিডল ও ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে বেশ পারদর্শী।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নতুন বলে বেশ কার্যকর। এই বোলিং অলরাউন্ডার দলের প্রয়োজনে নিচের দিকে ব্যাট চালাতেও সিদ্ধহস্ত। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুন্য যেকোনো সময় ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচের মোড়।

আসন্ন এশিয়া কাপ উপমহাদেশের উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে বাংলাদেশের পেস ইউনিটও নিশ্চয় ছেড়ে কথা বলবে না।  মুস্তাফিজ, তাসকিন, শরিফুল, তানজিম সাকিব এবং সাইফউদ্দিনের সমন্বয়ে গড়া পেস আক্রমণ যদি ছন্দ খুঁজে পায়, তবে প্রতিপক্ষের জন্য তা দুশ্চিন্তার কারণই হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link