ফরম্যাট যাই হোক – সব জায়গাতেই বিস্ফোরক ব্যাটিং, শক্তিশালী পাওয়ার হিটিং, আর প্রতিবারের মতো মঞ্চ দখল করার মিশন। এই চেনা ছবিটাই ট্রাভিস হেড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আবারও দেখা গেল সেই রূপ। ওয়ানডেতে নিজের সপ্তম শতকটায় প্রতিপক্ষের মনের শান্তি কেড়ে নিলেন যেন প্রথম বল থেকেই।
শেষবার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন ইংল্যান্ডে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর কেটে গেছে ১১ মাস। এবার আবারও সুযোগ পেয়ে যেন নতুন করে মনে করালেন—তিনি ক্রিজে থাকলে খেলার গতি বদলে যায়।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। বোলারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মত করেই ব্যাট চালিয়েছেন। ফিল্ডাররা অস্থির, ক্যাপ্টেন বারবার ফিল্ডারদের বদলাচ্ছেন। কিন্তু লাভ হচ্ছে না, হেডের ব্যাট তখন কেবলই বাউন্ডারি খুঁজছে।

শেষ পর্যন্ত থামলেন ১৪২ রানে, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাষা বদলে গেছে। তার ব্যাটিংয়ের স্টাইলই যেন আক্রমণের অভিধান। ৩২ বলে পান হাফ সেঞ্চুরি, ৮০ বলে সেঞ্চুরি। আর সঙ্গী মিশেল মার্শের সঙ্গে গড়লেন ২৫০ রানের উদ্বোধনী জুটি—যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচের বাইরে নিয়ে গেছে অনেক আগেই। অবশেষে কেশব মহারাজের বলে থামলেন, ৩৫তম ওভারে।
১০৩ বলের ইনিংসে ১৭ টি চার আর পাঁচটি ছক্কা। যে ছন্দে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল সংখ্যাগুলোও তার সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগেই ছিল একটি সেঞ্চুরি, তিনটি হাফ সেঞ্চুরি; আজ সেই তালিকা আরও ভারী হল।
ট্রাভিস হেড ক্রিকেটের সেই ব্যাটার, যিনি দর্শকদের ভুলিয়ে দেন সময়ের ক্ষণগণনা। তার প্রতিটি স্ট্রোকে থাকে আক্রমণ, প্রতিটি শটে থাকে জয় ছিনিয়ে আনার ঘোষণা। বলের জন্ম হয়েছে ব্যাটারের হাতে তীব্র পিটুনি খাওয়ার জন্যই, এই ধারণার একনিষ্ট সাধক ট্রাভিস হেড।











