তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা যায় কেবল। কিন্তু, তাতে কোনো উপকার হয় না। বরং তিনি যেকোনো বাঁধা অতিক্রম করে সামনে চলে আসেন, বিজয়ী হয়ে উল্লাসে ভাসেন। আবারও উল্লাসে ভাসলেন লিওনেল মেসি। ওরল্যোন্ডো সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইন্টার মিয়ামিকে নিয়ে গেলেন লিগস কাপের ফাইনালে।
ইনজুরির কারণে আগের ম্যাচটা মিস করেছিলেন লিওনেল মেসি। ভক্তরা জানতেন, বড় লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছেন তিনি। প্রতিপক্ষও কম বড় নয়—ওরল্যান্ডো সিটি।
লিগস কাপের সেমিফাইনালের আগে মিয়ামি এই মৌসুমে তাদের বিপক্ষে দুই ম্যাচে হজম করেছে সাত গোল। আর সেই ওরল্যান্ডোই আবার প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে। মিয়ামির সামনে তখন অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।

কিন্তু মেসি তো মেসিই। ধীরে ধীরে যেন ফিরে এলেন তার পুরনো রূপে। লিগস কাপে দুই বছর পর মিয়ামির হয়ে প্রথমবারের মতো একটি পেনাল্টি নিলেন তিনি। নিখুঁত শটে বল ঠাঁই নিল জালে। মিয়ামি ফিরে এল সমতায়।
তবে আসল উত্তেজনা জমল এরপর। চেনা ভঙ্গিতে ডি বক্সের ভেতরে একদম ওয়ান-টু পাসে বল পেলেন, আর সেই মুহূর্তেই গোল। পুরো স্টেডিয়াম তখন একসাথে গর্জে উঠল। গোল করার পর তার উদ্দাম উল্লাস—শিশুদের মত ভাগ করে নেওয়া সেই আনন্দ—মেসির ভেতরের তারুণ্যটাকেই যেন আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
৩৮ বছর বয়সেও তিনি যেন ১৮-এর তরুণ। মাঠে তার ছুটে চলা, গোলের পর সেই চোখধাঁধানো আবেগ—সবই প্রমাণ করে দেন, সময় এখনো তাকে বশ মানাতে পারেনি। ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে ৩-১। মেসির ডাবল আর সেগোভিয়ার একক গোল মিয়ামিকে পৌঁছে দিল ফাইনালে।

স্লোগান উঠেছিল—‘মেসিকে সেমিতে আটকাও, নাহলে ফাইনালে থামানো যাবে না।’ সেটিই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিল। সামনে আরেক ধাপ, আরেকটি ম্যাচ। এরপরই হয়তো ট্রফি হাতে উঠবে মেসির হাতে।
প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়—মেসি কোথায় গিয়ে থামবেন? নাকি বয়সটা সত্যিই আটকে রাখা যায়! তিনি চাইলেই পারেন!










