সেদিকুল্লাহ অটল নামক নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা বেশ আগেভাগেই নজরে এসেছিল। ক্রিকেট বিশ্বের তিনি আলোড়নের সৃষ্টি করেছিলেন বেশ অল্প বয়সেই। মারকাটারি টি-টোয়েন্টির ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তার কদর বেড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমাণ করার আগে। কিন্তু সেই অটল জাতীয় দলের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধুকছিলেন। ব্যর্থতার সেই খোলস ছেড়ে অটল বেড়িয়ে এলেন চলমান ত্রি-দেশীয় সিরিজে।
২০২৪ সালে ইমার্জিং এশিয়া কাপ দিয়ে মূলত আলোচনায় এসেছিলেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সেই এশিয়া কাপে ৩৬৮ রান করেছিলেন তিনি প্রায় ১৪৮ স্ট্রাইকরেটে। সে মঞ্চেই নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় দলে নিজেকে মেলে ধরার আগেই তিনি সুযোগ পেয়ে যান দক্ষিণ আফ্রিকান এসএ টি-টোয়েন্টি ও আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতে।
এমনকি ভারতের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও তাকে দলে ভিড়িয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। এই বিষয়গুলো অন্তত অটলের সক্ষমতার বয়ান। তবে তিনি আফগানদের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম করতে পারছিলেন না। এমনকি কোন ধরণের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট খেলার আগেই তাকে ওয়ানডে দলেও জায়গা করে দেওয়া হয়, স্রেফ একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরই।

সাদা বলের বড় ফরম্যাটে অবশ্য নিজের সামর্থ্যের একটু স্ফুলিঙ্গ অবশ্য প্রদর্শন করেছেন তিনি। এমনকি লিস্ট এ ক্রিকেটে তার একটি মাত্র সেঞ্চুরি রয়েছে, সেটিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। বিপত্তি ছিল তার টি-টোয়েন্টি পারফরমেন্সে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রি-দেশীয় সিরিজে নিজের সেই সক্ষমতার চিত্রই এঁকে যাচ্ছেন সেদিকুল্লাহ অটল।
টানা দুই ম্যাচে দুই ফিফটি করেছেন তিনি। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যাকে নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি লেগে যাওয়ার মত অবস্থা, তার স্ট্রাইকরেট ছিল মাত্র ৯১.৫৩। তবে শেষ দুই ম্যাচে তিনি ব্যাটিং করেছেন প্রায় ১৩৯ স্ট্রাইকরেটে। তাতেই বরং অবশেষে স্বস্তি ফিরল আফগানিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের।
সামনেই যে এশিয়া কাপ, বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন প্রতিভাবান একজন ব্যাটারের নিজেকে মেলে ধরাটা ভীষণ ইতিবাচক। বলা বাহুল্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকেও খেলতে হবে ম্যাচ। সেই ম্যাচে সেদিকুল্লাহ অটল হতে পারেন বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ। এমন দুশ্চিন্তা আফগানিস্তানের জন্যে অবশ্য দারুণ আনন্দের।












