সিলেটের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে প্রশ্নের সংখ্যা বেড়েছে, উত্তর আসেনি একটিও। সিলেটের ‘অচেনা’ স্লো উইকেট, বৃষ্টির জন্য ভেজা আউটফিল্ড আর ব্যাটসম্যানদের সীমাবদ্ধতা – সব মিলিয়ে দলীয় ব্যাটিং পরিকল্পনাগুলো যেন আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এশিয়া কাপের প্রস্তুতি। কিন্তু, সিরিজ শেষে আশ্বাস বা সমাধান নয়, সেই প্রস্তুতির ঘাটতিই চোখে পড়ছে বেশি। বিশেষ করে চার নম্বর পজিশনটা এখন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
ওপেনিংয়ে নেমে শেষ ম্যাচে লিটন দাস আগ্রাসী মানসিকতায় রান তুললেও নতুন বল ও ধীর কন্ডিশনে সময়মতো টাইমিং মেলাতে পারেননি। বৃষ্টির পর তাঁর জন্য রান তোলা আরও শক্ত হয়ে পড়ে।

অন্য দিকে তাওহীদ হৃদয়ের ১৪ বলে ৯ রানের ইনিংস দলের মোমেন্টাম নষ্ট করেছে। এ বছরে ১০ ম্যাচের বেশি খেলা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে হৃদয়ের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম।
অফসাইডে খেলতে না পারা ও স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারার ব্যর্থতা তাঁকে কাঠগড়ায় তুলেছে। এশিয়া কাপে হৃদয়কে তাই একাদশে রাখার কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
চার নম্বরে কে খেলবেন? কিংবা মিডল অর্ডারের দায়িত্ব কে নেবে — এই প্রশ্নগুলো এখনও উন্মুক্ত। মিডল অর্ডার, মানে চার নম্বর বিপদ সংকেতের সমাধান হতে পারেন সাইফ হাসান।

সাইফের ফুটওয়ার্ক কিংবা বডি ব্যালান্স — কোনোটাই নতুন বলে মুভমেন্ট সামলানোর মতো নয় ঠিকই, কিন্তু স্পিনের বিপক্ষে তিনি মারকুটে। নতুন বলের জন্য তাঁকে বিবেচনা করা যাবে না। তবে, চার নম্বরে ভাবা যেতে পারে।
জাকের আলী কিংবা নুরুল হাসান সোহান— যে কাউকে চার বা ছয় নম্বরে পাঠালেও, তাদের পাওয়ার হিটিং ক্ষমতা হৃদয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। সোহানের হিটিং জোনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও, স্লট বল হিটিংয়ে জাকেরের সাথে তিনিই বাংলাদেশের সেরা। হৃদয় সেক্ষেত্রে ডাগ আউটেই থাকতে হবে।
কিন্তু, সমস্যার শেকড় এখানে নয়। আসলে চার নম্বর পজিশনটা কেউই নিজের করে নিতে পারেনি। জাকের বা সোহান হয়তো হৃদয়ের চেয়ে এই মুহূর্তে ভাল ফর্মে, কিন্তু তারাও চার নম্বরের জন্য পরিপূর্ণ নন। এই শূন্যতাই এই মুহূর্ত বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা।

প্রথম দুই ম্যাচে আগে বোলিং নেওয়ায় সিরিজের মূল লক্ষ্য—এশিয়া কাপের প্রস্তুতি—অংশে পূরণ হয়নি। ফলে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের আগে এখনও নিজের শক্তিশালী একাদশ ও কার্যকর কৌশল ঠিক করতে পারেনি, যা বড় চিন্তার বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।










