আবরারের ঘূর্ণিতে এশিয়া কাপের আগাম বায়োস্কোপ

এশিয়া কাপে গেমচেঞ্জার হতে চলেছে স্পিনাররা। আবরার আহমেদের দুর্ধর্ষ বোলিং সে কথার পক্ষেই সাফাই গাইছে।

এশিয়া কাপে গেমচেঞ্জার হতে চলেছে স্পিনাররা। আবরার আহমেদের দুর্ধর্ষ বোলিং সে কথার পক্ষেই সাফাই গাইছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাবে- এটা নিশ্চয়ই কেউ বিশ্বাস করেনি। তবে অঘটন ঘটতে কতক্ষণ? কিন্তু আবরার কোন ধরণের অঘটন ঘটার সুযোগই দিলেন না। ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে আরও একটি জয়ের রাস্তা করে দিলেন পাকিস্তানি এই লেগ স্পিনার।

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে লেগ স্পিনারদের কদর বেড়েছে বেশ দ্রুততার সাথে। রশিদ খান, অ্যাডাম জাম্পারা তো রীতিমত শাসনের ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। সেদিক থেকে পাকিস্তানের আবরার আহমেদের রয়েছে মিশ্র অভিজ্ঞতা। এই যেমন ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি আগের তিন ম্যাচ খেলার সুযোগই পাননি। অবশ্য তার পেছনে রয়েছে সংগত কারণ।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে পাকিস্তানের ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন আবরার। লাহোরের সেই তিন ম্যাচের মধ্যে স্রেফ একটি ম্যাচে তিনি তিনটি উইকেট পেয়েছিলেন। ১০ ওভার বোলিং করে ৮১ রান খরচা করেছিলেন। এরপর ঢাকার মিরপুরে খেলতে নেমেও উইকেটের দেখা পাননি। তবে ৪ ওভারে ২০ রানে একটা সংযত বোলিং স্পেল শেষ করেছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আবরারে পারফরমেন্সের এমন উত্থান-পতনই তাকে একাদশে বিবেচনার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এখানেই বরং মধ্যবিত্ত মানসিকতার দায়ও রয়েছে। লেগ স্পিনাররা প্রতিটি ম্যাচে জয়ের রাস্তা সুগম করে দেবে না। তবে তারা যেকোন দিন পুরো ম্যাচের লাগাম দলের হাতে এনে দেবে আবার সেটাকে আকড়ে রাখতেও সহয়তা করবে।

এমনই একটি দিন তিনি পার করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। শক্তিমত্তার পার্থক্য আছে এ কথা সত্য। কিন্তু টি-টোয়েন্টির যুগে রান করা বেশ সহজ। সেই সহজ কাজটা আমিরাতের ব্যাটারদের করতে দেননি আবরার আহমেদ। চার ওভার বোলিং করে মোটে ৯টি রান খরচা করেছেন তিনি।

রানের ধারা শুকিয়ে দিয়ে তিনি ক্ষান্ত থাকেননি। শিকার করেছেন চার খানা উইকেটও। আমিরাতের ইনফর্ম অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিমকে তিনি সাজঘরে পাঠিয়েছেন। এছাড়া আসিফ খান, রাহুল চোপড়া ও হার্শিত কৌশিকদেরও তিনি দেখিয়েছেন ড্রেসিং রুমের পথ। আরব আমিরাতের মিডল অর্ডার তো সেখানেই ধ্বংস। এরপর আর লড়াই করবার মত যথেষ্ট সামর্থ্য আর হয়ে ওঠেনি স্বাগতিকদের।

তাতে করে ৩১ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এই জয় ছাপিয়ে, আরব আমিরাতের মাটিতে হওয়া এই ত্রি-দেশীয় সিরিজ কিন্তু এশিয়া কাপের আগাম পরিস্থিতি বাতলে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই সিরিজে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচ ম্যাচ। এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিন দলের স্পিনাররা মিলে বাগিয়েছে ৩২টি উইকেট, ৭০টি উইকেটের মধ্যে।

যার অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ শতাংশ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা। সুতরাং এশিয়া কাপেও যে একই দৃশ্যের অবতারণা হবে, তা অনুমান করে নেওয়া যায়। ব্যাটারদের তাই একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে। আরব আমিরাতের উইকেট যে বরাবরই স্পিনারদের একটু বেশি সহয়তা করে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link