একেবারে অন্তিম লগ্নে গোল হজম। একটা সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল হেলায় হারাল। এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ অবধি নিরাশার নোনা জলে ডুব দিয়েছেন শেখ মোরসালিনরা। অন্যদিকে ইয়েমেন যেন এই জয়ে পেয়ে গেছে সোনার হরিণ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল হেরেছিল স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে। ২-০ গোলের পরাজয়ে এমনিতেই সমীকরণ কঠিন হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। স্বাভাবিকভাবে ইয়েমেনের বিপক্ষে জয় মিরাজুল ইসলামদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারত। সেই লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল জায়ান আহমেদরা।
এদিন একাদশে কিউবা মিচেল সুযোগ পাননি। অন্যদিকে শুরু থেকেই ছিলেন ফাহমিদুল ইসলাম। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দল দাপট দেখিয়েছে পুরো মাঠ জুড়েই। তবে অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে বাংলাদেশের সেই পুরনো দশা। আক্রমণের শেষ লাইনে বাংলাদেশ বরাবরই দূর্বল, সেটা জাতীয় দল হোক কিংবা বয়সভিত্তিক দল।

মোরসালিন, জায়ান, ফাহমিদুলরা বল সাজিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছেন বটে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতরে ঢোকার আগ মুহূর্তে খেই হারিয়েছেন প্রত্যেকে। বিশেষ করে আল আমিন হোসেন উইংগার রোলে বেশ ধুকেছেন। পরবর্তীতে তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন, ভারপ্রাপ্ত কোচ হাসান আল মামুন।
তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ যুবারা আশা জাগিয়েছিল ম্যাচটি নিজেদের করে নেওয়ার। এমনকি একটা পর্যায়ে ইয়েমেনের খেলোয়াড়দের খানিক হতাশাগ্রস্ত মনে হতে থাকে। তাদের জয়সূচক গোলের পর পুরো দলের সেজদাহে মাটিতে লুটিয়ে পড়াই বরং বলে দেয়, ঠিক কত বড় চাপ নেমে গেছে তাদের বুক থেকে।
বাংলাদেশের স্কোরিংয়ের দূর্বলতা শেষ অবধি বদলায়নি দ্বিতীয়ার্ধে। উলটো ম্যাচ সমাপ্তির নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে দশ জনের দলে পরিণত হয় তানিল সালিকরা। মুজিবুর রহমান জনি, ডি-বক্সের সামনে ফাউল করে বসেন, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। যথারীতি আইন অনুযায়ী তা রেড কার্ডে রুপান্তরিত হয়।

ঠিক এরপর বাংলাদেশ দল হয়ে পড়ে এলো মেলো। ইনজুরি টাইমের চার মিনিট সহ শেষে সাত মিনিট ইয়েমেন নতুন উদ্যম ফিরে পায়। একেরপর এক আক্রমণে ব্যস্ত করে তোলে বাংলাদশের রক্ষণকে। শেষ বাশি বাজার এক মিনিট আগে গোলের ঠিকানা খুঁজে পায় ইয়েমেন। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলাদেশ হতাশায় আর ইয়েমেনের খেলোয়াড়রা স্বস্তির সেজদাহে।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে যতটা দূর্বল ঠেকেছিল বাংলাদেশকে, তার থেকে অবশ্য গোছানো খেলাই উপহার দিয়েছে ইয়েমেনের বিপক্ষে। স্ট্রাইকিং দূর্বলতা নিয়ে অন্তত আর যাই হোক ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। তাতে করে বলের দখল আর বাকি সব ফ্যাক্টর সবই বরং ঠুনকো হয়ে যায়।











