পরিবার না ক্যারিয়ার? এই প্রশ্নের মুখে অধিকাংশ সময়েই ক্রিকেটাররা পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এই যেমন সাম্প্রতিক সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজ। নবজাতক ভুমিষ্ট হবেন। তিনি তার স্ত্রীর পাশে থাকতে চাইলেন। আর তেমনটি করতে গিয়ে এশিয়া কাপের মত বড় এক টুর্নামেন্টকে রীতিমত বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। বাবারা সম্ভবত এমনই হন, পরিবারের ছায়া হতে জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করেন না।
এমন উদাহরণ ক্রিকেট আঙিনায় মঞ্চস্থ হয়েছে বহুবার। রোহিত শর্মা থেকে বিরাট কোহলিরাও ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে চেয়েছেন। ২০২৪ সালে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির আগে রোহিত বিরতি নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় তিনি ছুটি নিয়েছিলেন। এছাড়াও ২০১৮ সালে প্রথম সন্তানের সময়ও তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিরাট কোহলির তার পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন দু’বার। ২০২১ সালে প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখবে- সে জন্যে বিরাট বোর্ডার-গাভাস্কার টেস্ট সিরিজের তিনটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো সিরিজেই তিনি মাঠে নামেননি। বাবার দায়িত্ব পালন ছিলেন স্ত্রীর পাশে।

২০২৩ সালে তো জাসপ্রিত বুমরাহ এশিয়া কাপকেই অগ্রাহ্য করেছিলেন। তার সন্তান ভুমিষ্ট হবেন বলে তিনি এশিয়া কাপের প্রথম পর্ব খেলেননি। পরে অবশ্য সুপার ফোর চলাকালীন সময়ে দলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। ক্রিকেট ও পরিবারের মাঝে ভারসাম্য রাখতে চেয়েছিলেন অজি তারকা প্যাট কামিন্সও। ২০২৫ সালের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলেননি, দ্বিতীয় সন্তানকে প্রথম প্রহরেই আলিঙ্গন করবেন বলে।
২০২৪ সালে ইংলিশ ব্যাটার জস বাটলারও ক্রিকেটের চাইতে পরিবারকে এগিয়ে রেখেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলেননি। তিনি ছিলেন তখন দলের অধিনায়ক। তৃতীয়বারের মত বাবা হতে যাওয়া বাটলারের পরিবর্তে ইংল্যান্ডকে সেবার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মঈন আলী। সেবার সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড।
বিশ্বের তারকা সব খেলোয়াড়রাই পরিবার আর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা ক্যারিয়ারের তোয়াক্কা করেননি। ‘ফ্যামিলি ফার্স্ট’ নীতিতে চলতে তারা কোন ভাবেই দ্বিধা করেননি।












