এমন বন্ধু ভাগ্যে ক’জনার হয়

৩৫ বছর বয়সী স্পিনারের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ব্যাকফুটে গিয়ে চার মারলেন গিল। এরপর ব্যাট নামিয়ে এগিয়ে গেলেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধুর দিকে। মেলালেন হাত, জড়িয়ে ধরলেনও।

দু’জনের গল্পটা শুরু হয়েছিল একই মাঠে, ভারতের একই রাজ্যের আকাশের নিচে। পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় প্রতিদিন সকালবেলা ছয়টা থেকে এগারোটা পর্যন্ত ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মেতে থাকতেন তাঁরা। দু’জনের মধ্যে যদিও বয়সের বেশ পার্থক্য। একজনের নাম শুভমান গিল— যিনি আজ ভারতের ক্রিকেটের পোস্টারবয়। আরেকজন সিমরানজিৎ সিং— যিনি বছর ঘুরে এসে আরব আমিরাতের জার্সি গায়ে দাঁড়ালেন সেই গিলের বিপক্ষেই।

এশিয়া কাপের ম্যাচটা যেন তাই শুধু ভারত আর আমিরাতের ছিল না, ছিল দুই পুরনো বন্ধুর পুনর্মিলনের মঞ্চও। ম্যাচের আগেই সিমরানজিৎ খানিক সংশয়ে ছিলেন। সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি শুভমানকে ছোট থেকে চিনি। কিন্তু জানি না ও আমাকে মনে রেখেছে কি না। ২০১১-১২ সালের কথা, তখন ওর বয়স ১১-১২ বছর হবে। আমি প্র্যাকটিস শেষ করার পর শুভমানকে আলাদা করে বল করতাম।’

কিন্তু মাঠের ছবিটা যেন সব প্রশ্নের জবাব দিল। ভারত তখন জয় থেকে কয়েক কদম দূরে। আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম বল তুলে দিলেন সিমরানজিতের হাতে। ৩৫ বছর বয়সী স্পিনারের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ব্যাকফুটে গিয়ে চার মারলেন গিল। এরপর ব্যাট নামিয়ে এগিয়ে গেলেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধুর দিকে। মেলালেন হাত, জড়িয়ে ধরলেনও। আর সিমরানজিৎ? একগাল হাসিতে যেন বলে দিলেন— হ্যাঁ, এই বন্ধুত্ব আজও অটুট।

সিমরানজিতের গল্পও কম উত্থান–পতনের নয়। পাঞ্জাব জেলা ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা, ২০১৭ সালে রঞ্জি ট্রফির সম্ভাব্য দলে থাকা, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের নেটে বল করা— সবই ছিল তাঁর যাত্রাপথের অংশ। কিন্তু ভাগ্য একদিন তাঁকে নিয়ে এলো দুবাইয়ে। ২০২১ সালের করোনা মহামারীর সময় আর দেশে ফেরা হয়নি। সেখানেই শুরু নতুন লড়াই। ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে জায়গা হলো আরব আমিরাতের জাতীয় দলে।

আর ভাগ্যের এক রসিকতা— এতদিন বাদে সেই লুধিয়ানার ছেলেটিই এবার মুখোমুখি দাঁড়াল ভারতের মহাতারকার। ছোটবেলার সেই বন্ধুত্ব যে ভোলেননি শুভমান গিল। ম্যাচ থেকে সেটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সিমরানজিতের।

Share via
Copy link