‘দ্য ফিয়ার অব নাহিদ রানা ইজ রিয়েল’। নাহিদ রানার গতি একটা ভয়ের দমবন্ধকর আবহাওয়া সৃষ্টি করতে পারে। সেটার প্রতিচ্ছবি তিনি এঁকেছিলেন পাকিস্তান সিরিজের প্রথম ম্যাচে। সেই একই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও।
গাজী ঘোরি তো পপিং ক্রিজে আটকে গেলেন। নাহিদের গতির সামনে তিনি নিরুত্তর। না যেতে পারলেন ফ্রন্টফ্রুটে যেতে পারলে, না যেতে পারলেন ব্যাকফুটে। কোন কিছু বোঝার আগেই বল জমা হয় লিটনের দস্তানায়। এটা ভয়, এটাই গতির সেই আজন্ম ভয়। আর সেই ভয় বাড়াতে নাহিদ যুক্ত করে দেন শর্ট বল।

এক একটি শর্ট বল যেন এক একটি ধ্বংসাত্মক ক্ষেপনাস্ত্র। যেই ক্ষেপনাস্ত্রে মাজ সাদাকাত ভূলুন্ঠিত হয়েছে এবারের সিরিজে মোট মিলিয়ে দুইবার। মাজ সাদাকাত পুল শট খুব একটা খারাপ খেলেন না। কিন্তু দুইবার তিনি পরাস্ত হয়েছে নাহিদের গতির সামনে। একবার পুল শট করতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দিয়েছেন ফাইন লেগে, সেটা ছিল সিরিজের প্রথম ম্যাচে।
এরপর সিরিজের শেষ ম্যাচে, আবারও পুল শট খেলতে গিয়ে আটকা পড়লেন লিটনের দস্তানায়। ওই গতির সাথে সখ্যতার কারণেই তিনি আর পেরে ওঠেননি। এই যে ব্যাটারকে ভরকে দেওয়া, ব্যাটারকে ভয়ে কাবু করে ফেলা- এসব কিছু করতে জানেন নাহিদ রানা। যখন মনে হবে খেলা একবার নিস্তেজ হয়ে গেছে- তখনই নাহিদ ত্রাসের ভয়ানক চিত্র অঙ্কন করতে জানেন।

ব্যাটারের মস্তিষ্কে নিজের একটা রুদ্রমূর্তির ছবি এঁকে দিতে পারেন। আর ঠিক এ কারণেই নাহিদ রানাকে বাংলাদেশের প্রয়োজন। ঝিমিয়ে পড়া ওয়ানডে ম্যাচের মিডল ওভারে তিনি এক দুর্ধর্ষ গতির ঝড় তুলতে সক্ষম। যে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা। ব্যাটাররা ভয়ে ভয়ে চালাবে ব্যাট কিংবা ঠায় দাঁড়িয়ে রইবে পপিং ক্রিজের মধ্যখানে।











