বাঘের ডেরায় হানা দিতে প্রস্তুত সরফরাজ

বুধবার করাচিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার এক নিবিড় অনুশীলন সেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি সরফরাজ।  কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই সাবেক অধিনায়ক।

সরফরাজ আহমেদের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তান দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে যেন মুখিয়ে আছে। ৩ মে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পা রাখবে বাবর-মাসুদরা। মাঠের লড়াই শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে কোনো খামতি রাখছে না তারা।

বুধবার করাচিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার এক নিবিড় অনুশীলন সেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সরফরাজ।  কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন এই সাবেক অধিনায়ক। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটিই হবে কোচ সরফরাজের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।

বাংলাদেশের কন্ডিশনের সাথে করাচির আবহাওয়ার অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করেছেন সরফরাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা সচেতনভাবেই করাচিকে বেছে নিয়েছি, কারণ এখানকার কন্ডিশন অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। আমাদের ছেলেরা কেবল স্পিন সামলানোর কৌশলই ঝালিয়ে নিচ্ছে না, পাশাপাশি পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেটেও সমানতালে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

কোচ হিসেবে নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সরফরাজ বেশ রোমাঞ্চিত। তার মূল লক্ষ্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দাপুটে সূচনা করা। তার মতে, বাংলাদেশ সফর থেকেই সেই জয়ের ধারা শুরু করতে চায় পাকিস্তান।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল নিয়ে ব্যস্ততার কারণে দলের সব সদস্যকে এখনো ক্যাম্পে পাননি সরফরাজ। পেশোয়ার জালমি ফাইনালে ওঠায় দলটির দুই জন ক্রিকেটার কিছুটা দেরিতে যোগ দেবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪ মে সরাসরি ঢাকায় দলের সাথে মিলিত হবেন তারা।

বাবর আজমের ফর্মে ফেরা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। সরফরাজ মনে করেন, বাবরের পুরনো ছন্দে ফেরা এবং শান মাসুদের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় পুঁজি হিসেবে কাজ করবে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে সরাসরি টেস্টে ফেরার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও তিনি সজাগ।

একসময় যাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠ মাতিয়েছেন, এখন তাদেরই কোচ সরফরাজ। সতীর্থদের কোচিং করানোটা কি বাড়তি চাপের?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বিনয়ী সরফরাজ বলেন,’মতামত সবারই থাকে, তবে আমার লক্ষ্য নিজের সেরাটা দেওয়া। আমার সাথে আসাদ শফিক, উমর গুল ও আব্দুল সাদের মতো একঝাঁক অভিজ্ঞ মুখ ম্যানেজমেন্টে আছেন। আমাদের লক্ষ্য একটাই – কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দলের জন্য সুফল বয়ে আনা’।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link