এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ আসলে হারল কোথায়? সহজ কথা, ভারতের বিপক্ষে যেভাবে খেলা দরকার ছিল, সেটা বাংলাদেশ পারেনি। ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিং, তিন জায়গাতেই বাজে দিন কাটিয়েছে বাংলাদেশ, ফলাফলস্বরূপ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেই বাংলাদেশের যাত্রা থেমে গেল।
প্রথমত, বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হয়েছে ফিল্ডিংয়ের কারণে। একের পর এক ক্যাচ মিস বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। এক শেফালি ভার্মাকেই তিনবার জীবন দিয়েছেন ফিল্ডাররা। ফলাফলস্বরূপ, তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬৪ রান। এমনকি ক্যাচ মিসের সাথে বলগুলো চলে গেছে বাউন্ডারির বাইরে।
শুধু ক্যাচ নয়, গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়েও বাংলাদেশের যথেষ্ট দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। অন্তত এই জায়গায় একটু সচেতন হলে ৩০-৪০ রান আটকানো সম্ভব ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। বড় দলগুলো বড় মঞ্চে খুব বেশি সুযোগ দেবে না আপনাকে। যতটুকু পাওয়া যায়, সেটা কাজে লাগাতে না পারলে বিপদ বৈকি।

বোলিংটাও ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। দলের সেরা বোলার মারুফা আক্তার এদিন শুরুতেই সাফল্য এনে দিতে পারেননি। ছিলেন বেশ খরুচে। চার ওভারে ৪০ রান দিয়ে নিয়েছেন মাত্র এক উইকেট, সেটাও শেষ ওভারে এসে। সুলতানা খাতুন, নাহিদা আক্তাররা পারেননি ভারতের লাগাম টানতে।
সবশেষে ব্যাটিংয়ের সমস্যাটা রয়েই গেছে। শুরু থেকেই ধীরগতির ব্যাটিং মনোভাব বাংলাদেশকে ডুবিয়েছে। ১৫০ রান তাড়া করতে গেলে পাওয়ার প্লেকে যতটা কাজে লাগানো উচিত, সেটা পারেনি বাংলাদেশ। অবশ্য পুরো টুর্নামেন্টেই এই সমস্যা ছিল। প্রথম থেকেই নিজেদের ওপর চাপ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ, শেষমেশ সংগ্রহটা তাই ১১০-১২০-এর মধ্যেই থাকে। দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, সোবহানা মোস্তারি—টপ অর্ডারের তিনজনই ব্যাট করেছেন ১০০ স্ট্রাইক রেটের নিচে। যা টি-টোয়েন্টিতে একপ্রকার অপরাধ।
তিন সেক্টরেই এমন পারফরম্যান্স দিয়ে আর যাই হোক, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জেতা অলীক স্বপ্নই বটে। বড় দলের বিপক্ষে এই তিন জায়গায় সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করতে হবে। বাংলাদেশ এখানেই মূলত ব্যর্থ হয়েছে। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়ে তার মূল্য চোকাতে হয়েছে।











