বাংলাদেশের সামনে এখন আর হিসাব-নিকাশের জায়গা নেই, নেই ভুল করার সুযোগও। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এবার প্রতিপক্ষ শিরোপার দাবিদার ভারত। প্রশ্নটা তাই, বাংলাদেশ কি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে ভারতকে?
এই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য শুধুই সেমিফাইনাল নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আমিরাতের বিপক্ষে মাত্র ১০৩ রান করেও যেভাবে বোলাররা ম্যাচ বের করে এনেছেন, সেটিই হতে পারে ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা।
তবে ভারতের বিপক্ষে কাজটা যে অনেক কঠিন, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এবারের এশিয়া কাপে ভারত এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে। হারেনি একটা ম্যাচও। স্মৃতি মান্ধানা হাঁকিয়েছেন একটা সেঞ্চুরিও।
শুধু মান্ধানাই নন, ভারতের বোলিং ইউনিটও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রী চরানি, দীপ্তি শর্মা, রাধা যাদব কিংবা প্রেমা রাওয়াত, ভারতের স্পিন আক্রমণে বৈচিত্র্যের অভাব নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষেও ভারতের স্পিনাররা দারুণ কার্যকর ছিলেন। মাত্র ৫৫ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে ভারত ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই ব্যাটিং। আমিরাতের বিপক্ষে ১০৩ রানেই অলআউট হয়েছিল দল। সুরকসা কোটের বোলিংয়ে টপ অর্ডার ধসে যাওয়ার পর শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩৮ এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ২৩ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। কিন্তু ভারতের মতো দলের বিপক্ষে ১০০-১১০ রান কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। তাই ওপেনার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
আর সেখানেই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভারতের শক্তিশালী বোলিংকে সামলানো। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেবার বাংলাদেশ ১৩৬ রান করেও ভারতকে আটকাতে পারেনি; শাফালি ভার্মার ২৯ বলে ফিফটির ওপর ভর করে ১৬.৫ ওভারে ১৩৯ রান তুলে পাঁচ উইকেটে জিতেছিল ভারত।
তবে সেমিফাইনালের মঞ্চ আলাদা। এখানে আগের ম্যাচের ফল নয়, ওই দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি হবে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট না হারানো। জুয়ারিয়া ফেরদৌস, দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, নিগার সুলতানা জ্যোতিদের ব্যাটে বড় অবদান রাখতে হবে। পাশাপাশি রাবেয়া, মারুফা, নাহিদাদের বোলিংয়ে শুরুতেই চাপ তৈরি করতে হবে।
বিশেষ করে দুবাইয়ের কন্ডিশনে বাংলাদেশের স্পিনাররা ভারতের ব্যাটারদের কতটা আটকে রাখতে পারেন, সেটিও ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দিতে পারে। ভারতের ব্যাটিং যতটা শক্তিশালী, বাংলাদেশের বোলিংও ততটাই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে যদি শুরুতেই কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়া যায়।

ভারত নামবে ফেভারিট হিসেবে, বাংলাদেশ নামবে চ্যালেঞ্জার হয়ে। কিন্তু ক্রিকেটে ফেভারিট হওয়া আর ম্যাচ জেতা এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের মেয়েরা এরই মধ্যে দেখিয়েছে, কম রান নিয়েও তারা ম্যাচ জিততে পারে। এবার প্রয়োজন সেই লড়াকু মানসিকতার সঙ্গে ব্যাটিংয়ে একটু বেশি সাহস, বোলিংয়ে আরও নিখুঁত পরিকল্পনা।










