অপরাজিত ভারত এবার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার মিশনে। নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে তাদের সামনে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্সে সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করা ভারত এখন চাইবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে। বাংলাদেশ কি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে?
শুরু থেকেই এবারের টুর্নামেন্টে ভারতকে দেখা গেছে দুর্দান্ত ছন্দে। থাইল্যান্ড, হংকং ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে হরমনপ্রীত কৌরের দল। বিশেষ করে হংকংয়ের বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয় ভারতের শক্তির গভীরতা আরও একবার সামনে এনেছে। পাকিস্তানকেও মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মহড়া সেরেছে ভারত।
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার নাম স্মৃতি মান্ধানা। ৬৪ বলে ১২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ভারতের এই বাঁহাতি ওপেনার। ১৪টি চার ও সাতটি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংস শুধু ভারতকে বড় জয়ই এনে দেয়নি, মান্ধানাকে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের আসনেও বসিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাই নিঃসন্দেহে এই ওপেনিং জুটি। স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে শেফালি ভার্মা শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেন। হংকংয়ের বিপক্ষেও এই জুটি ৭৪ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিল। পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ যদি দ্রুত উইকেট নিতে না পারে, তাহলে ভারতকে বড় স্কোরের দিকে ছুটতে দেখা যেতে পারে।

তবে ভারতের শুধু ওপেনিংই নয়, বোলিং ইউনিটও বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি। হংকংয়ের বিপক্ষে দীপ্তি শর্মা নিয়েছেন তিন উইকেট। সঙ্গে শ্রী চরানি, নন্দিনী শর্মা ও প্রেমা রাওয়াত নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। অর্থাৎ ভারতের স্পিন আক্রমণে যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি আছে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্যও।
দীপ্তি শর্মার কথাই আলাদা করে বলতে হয়। ব্যাটে-বলে দুই বিভাগেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার তিনি। মাঝের ওভারে রান আটকে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। বাংলাদেশের মিডল অর্ডার যদি শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে, সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা কঠিন করে দিতে পারে ভারতের এই স্পিন আক্রমণ।
তবে ভারতের নিজেদেরও কিছু প্রশ্ন আছে। ওপেনাররা ভালো করলেও মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। হংকংয়ের বিপক্ষে মান্ধানার দাপটের আড়ালে ভারতের মিডল অর্ডারের দুর্বলতাও কিছুটা চোখে পড়েছিল। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা যদি শুরুতেই মান্ধানাকে ফিরিয়ে দিতে পারেন, তাহলে ভারতীয় মিডল অর্ডারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বোলিং। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থ হলেও বোলাররা ম্যাচে ফেরানোর সামর্থ্য রাখেন, এটি ভারতীয় ব্যাটারদের মাথায় রাখতেই হবে।

ভারতের জন্য ম্যাচের পরিকল্পনা তাই পরিষ্কার, প্রথমে বাংলাদেশের বোলিংয়ের চাপ সামলানো, দ্রুত রান তোলা এবং বড় স্কোর গড়া। কারণ বাংলাদেশের ব্যাটিংকে চাপে ফেলতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে চলে আসবে। অন্যদিকে বোলিংয়ে তাদের লক্ষ্য থাকবে জ্যোতি, শারমিন আক্তার সুপ্তা ও অন্য ব্যাটারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করা।
ফাইনালে যেতে হলে ভারতকে অবশ্যই ফেভারিটের মতো খেলতে হবে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত, ব্যাটিংয়ে মান্ধানার বিস্ফোরক ফর্ম, সঙ্গে দীপ্তি-নির্ভর শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ, সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে এগিয়ে ভারতই। কিন্তু সেমিফাইনালে একটি খারাপ দিন পুরো টুর্নামেন্টের হিসাব বদলে দিতে পারে।










