কাউন্টিতে হাসান-খালেদের সাত শিকার!

বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির রমরমা যুগ। তবুও মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কাউন্টি ক্রিকেট। মরিচা পড়েছে জনপ্রিয়তায়, তবে সম্মান-মর্যাদার হিসেবে এখনও সেটা ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার পারফর্ম করছেন, হাসান মাহমুদ ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, খালেদ আহমেদের বলে খাবি খাচ্ছে ব্যাটাররা, এও কি কম গৌরবের?

বিশ্ব ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির রমরমা যুগ। তবুও মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে কাউন্টি ক্রিকেট। মরিচা পড়েছে জনপ্রিয়তায়, তবে সম্মান-মর্যাদার হিসেবে এখনও সেটা ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার পারফর্ম করছেন, হাসান মাহমুদ ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, খালেদ আহমেদের বলে খাবি খাচ্ছে ব্যাটাররা, এও কি কম গৌরবের?

হাসান কেন্টে জায়গা করে নিয়েছিলেন আগেই। শুধু জায়গা নয়, পারফর্ম করছেন অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা সমেত। বাংলাদেশি এক পেসারের এমন দুর্দান্ত বোলিং গোটা বিশ্ব ক্রিকেটকে মুগ্ধ করেছে। যার ফলস্বরূপ খুলে গেছে খালেদ আহমেদের দরজা। তারও ডাক পড়েছে কেন্টের জার্সিতে মাঠে নামার জন্য।

আগের ম্যাচে হাসান একাই মাঠে ছিলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ঝুলিতে গেছে সাত উইকেট। খালেদ দেখেছেন সতীর্থের এমন পারফরম্যান্স। অপেক্ষা করেছেন সময়টা তার কখন আসবে। অবশেষে সেটা এসেছে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে। আর নেমেই বাজিমাত।

এদিনও প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। নতুন বলে তাঁর আগ্রাসনের সামনে শুরুতেই বিপাকে ডার্বিশায়ার। পরে আরও দুই শিকার নামের পাশে লেখা হলে দিনশেষে সংখ্যাটা দাঁড়ায় চার। এরপর খালেদ আহমেদও যোগ দিলেন উইকেটের তালিকায়। লাঞ্চের আগে দুজনের জোড়া শিকার করেন। সবমিলিয়ে তাঁর উইকেট তোলার সংখ্যা দাঁড়ায় তিন। দুই বাংলাদেশি মিলেই শিকার করেছেন সাত উইকেট।

 

তবে এই পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে অন্য একটি বিষয়। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে একটি দলে দুজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পান। আর কেন্ট সেই দুটি জায়গাতেই আস্থা রেখেছে বাংলাদেশের ওপর। আরও চমকপ্রদ ব্যাপার, দুজনই পেসার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডের মাটিতে একটি ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি দলের বিদেশি কোটার পুরোটা জুড়েই এখন বাংলাদেশ।

এখানেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্পটা সবচেয়ে পরিষ্কার। কারণ, একসময় বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে আলোচনা হতো সম্ভাবনা দিয়ে। গতি আছে, প্রতিভা আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকতা কোথায়, এমন প্রশ্নও ছিল। সেই জায়গা থেকেই আজ হাসান মাহমুদরা অন্য একটা বার্তা দিচ্ছেন।

হাসানের কাউন্টি অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর নিজের ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অন্য পেসারদের পথেও। সুযোগ পেয়েই তিনি যেভাবে পারফর্ম করছেন, তাতে ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে বাংলাদেশি পেসারদের প্রতি আস্থাটা আরও বাড়ার কথা।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে এখন এমন কিছু নাম আছে, যারা কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা রাখেন। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাঁদের সামর্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট প্রমাণ আছে।

প্রশ্নটা তাই এখন আর ‘বাংলাদেশি ক্রিকেটার কাউন্টিতে খেলতে পারবেন কি না’, এটা নয়। বরং প্রশ্ন হতে পারে, আগামী দিনে কতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে কাউন্টির দলগুলো নিজেদের সঙ্গে নিতে আগ্রহ দেখাবে?

একজনের সাফল্য যখন আরেকজনের জন্য পথ তৈরি করে, তখন সেটাকে ব্যক্তিগত অর্জন বলে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। হাসানের কাউন্টি যাত্রা তাই খালেদের জন্যও একটা দরজা খুলেছে। আর সেই দরজার ওপাশে হয়তো অপেক্ষা করছে আরও অনেক বাংলাদেশি পেসারের সুযোগ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link