তিন রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হলো শাওয়াল জুলফিকারকে। তবে যে ইনিংসটা তিনি খেলে গেলেন, সেটা সব আক্ষেপ মুছে দেওয়ার মতোই। পাকিস্তানের চিত যে গড়ে দিয়েছে শাওয়ালের এই ৪৭ রানের ইনিংস।
আগ্রাসী ব্যাটিং করতেই পছন্দ করেন তিনি। তবে সেই আগ্রাসনে মিশে আছে সচেতনতা। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ভালো বল সমীহ করা, বোলারের একটু ভুল হলেই বাউন্ডারির বাইরে পাঠানো, এভাবেই সাজিয়ে ইনিংস। কখনো দৃষ্টিনন্দন স্ট্রেট ড্রাইভ, আবার কখনও কাভার দিয়ে বল পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে।

শাওয়ালের ব্যাটিংয়ে তাই সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল তাঁর পরিণত মানসিকতা। বল বুঝে খেলেছেন, রান নেওয়ার সুযোগ খুঁজেছেন। হংকংয়ের বোলাররা যখন পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করছিল, তখন শাওয়াল যেন উল্টো চাপটা বোলারদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। উইকেট ধরে রেখে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার কাজটাই করে গেলেন তিনি।
শেষমেশ ৩৫ বলে ৪৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেই সাজঘরের পথ ধরেছেন। ১৩৪ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে ছিল ছয়খানা চারের মার। আরেকটু সচেতন হলেই ফিফটি হয়তো পেয়ে যেতেন। তবে সেটা না হলেও দলের জন্য যা করার, করে গেছেন তিনি।

বাবার স্বপ্ন ছিল, মেয়ে ক্রিকেটার হবে। সেই কথা তিনি রেখেছেন। শুধু ক্রিকেটারই হননি, দলের জন্য লড়ে যাচ্ছেন। দূর আকাশের কোথাও বসে এই ইনিংস দেখে নিশ্চয় শাওয়ালের বাবা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। তাঁর মেয়েই যে এখন পাকিস্তান দলের অন্যতম ভরসায় পরিণত হয়েছেন।









