এক যে ছিলেন নীরব নায়ক

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া - ফুটবল বিশ্বের এমন এক ট্র্যাজিক হিরো, যিনি ফাইনালের সবকটি ইতিহাস নিজে হাতে লিখেও সবসময় রয়ে গেলেন প্রচারণার আলো থেকে বহু দূরে।

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া – ফুটবল বিশ্বে তাঁর মত আড়ালের নায়ক আর নেই বললেই চলে। কত ফাইনালের ইতিহাস নিজের হাতে লিখেও সবসময় রয়ে গেলেন প্রচারণার আলো থেকে বহু দূরে। যখন কনফেটির বৃষ্টি হয় আর হাজারো ক্যামেরার ফ্ল্যাশ চিনে নেয় কোনো এক মহাতারকাকে, তার ঠিক কয়েক গজ দূরে দাঁড়িয়ে ঘামে ভেজা মুখে নীরবে হাসেন এই নি:সঙ্গ দেবদূত।

ফুটবল দুনিয়ার অলিখিত নিয়মটা যেন এমনই।  দলকে টেনে-টুনে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব অন্যদের হতে পারে, কিন্তু ফাইনালের মহারণে বিজয়ের শেষ তুলির আঁচড় দেওয়ার জন্য সবসময় একজন ডি মারিয়াই লাগত।

এক যুগের ট্রফি-খরা কাটাতে রিয়াল মাদ্রিদ যখন ছটফট করছিল, তখন ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘লা ডেসিমা’ ফাইনালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিশ্বসেরা রক্ষণভাগ তছনছ করে দিয়েছিলেন ডি মারিয়া।

অথচ ট্রফি তুলে ধরার পর তাকে কী প্রতিদান দিল ক্লাব? সব আলো কাড়লেন অন্য তারকারা, আর রিয়াল তাকে বিক্রি করে দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে। জয়ের মূল কারিগর হয়েও রাতারাতি তিনি হয়ে গেলেন বার্নাব্যুর এক অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায়।

আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে তার অবদান তো আরও বেশি অবিশ্বাস্য। ২০২১ সালে ব্রাজিলের ঘরের মাঠ মারাকানায় সেই জাদুকরী চিপ গোল। যা এক মুহূর্তে মিটিয়ে দিয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের ২৮ বছরের দীর্ঘ ট্রফি-মরুভূমির হাহাকার।

কিংবা ২০২২ সালে লুসাইলে বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে একাই ফরাসি ডিফেন্সকে চুরমার করে দিয়ে পেনাল্টি আদায় এবং মহাকাব্যিক দলীয় গোলের ফিনিশিং করলেন। তা সত্ত্বেও বিশ্ব ফুটবলের সমস্ত উন্মাদনা আর বন্দনা থেমে থাকল লিওনেল মেসিকে ঘিরে।

মেসির জীবনবৃত্ত পূর্ণ হওয়ার সেই মহাজাগতিক আলোতে ডি মারিয়ার মহাকাব্যিক ত্যাগ আর পারফরম্যান্স ঢেকে গেল শুধুই এক ফুটনোটের আড়ালে। লিও যে স্তরের হাইপ পেয়েছেন, ডি মারিয়া হয়তো তার সামান্য ছিটেফোঁটাও পাননি।

কিন্তু, ইতিহাস ঠিকই চেনে তার সত্যিকারের নায়কদের। ফুটবলের বড় বড় ট্রফিগুলো হয়তো শো-কেসে শোভা পায় অন্য কারও নামে, কিন্তু সেই ট্রফিতে সবচেয়ে দামি রক্ত আর ঘাম লেগে থাকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার। তিনি যখন যেখানে খেলেছেন, তাদের জন্য আক্ষরিক অর্থেই অ্যাঞ্জেল হয়ে উঠেছেন বারবার।

আলোর ঝিলিক থেকে দূরে থেকে বারবার দলকে বিশ্বজয়ের চূড়ায় বসিয়ে দিয়েছেন এই নিভৃতচারী। ডি মারিয়া নামক দেবদূতের মহিমা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই হয়েই থাকবে চিরকাল, সাথে ছোট্ট করে লেখা থাকবে, মনে রেখো আমিও ছিলাম!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link